ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ডারহামের জয় উদযাপন করতে গত শনিবার রাতে ডার্বির একটি নাইটক্লাবে যান কার্স। পরদিন ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাইটক্লাবের বাইরে হাতকড়া পরা অবস্থায় পেছনে হাত বাঁধা কার্সকে ঘিরে রেখেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। পরে পুলিশ জানায়, মাতাল ও বিশৃঙ্খল আচরণের সন্দেহে অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাকে।
ঘটনাটি এখন ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রকের তদন্তাধীন। এরই মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন কার্স। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুট বলেন, 'সত্যি বলতে আমি ভীষণ বিরক্ত। খুবই হতাশ যে, গত সপ্তাহের চমৎকার পারফরম্যান্সের পর আজ এখানে বসে এমন কিছু নিয়ে কথা বলছি, যার সঙ্গে মাঠের খেলার কোনো সম্পর্কই নেই।'
ঘটনা জানার পর কার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন রুট। অধিনায়কের দাবি, নিজের কাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত কার্স। রুট বলেন, 'ব্রাইডনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যখন প্রথম ঘটনাটি জানতে পারি, ব্যক্তি ব্রাইডনের কথা সবার আগে ভাবছিলাম। সে আমাদের ড্রেসিংরুমের অংশ। আমার মনে হয় না এখন এটা বলা ভুল হবে যে সে খুবই হতাশ, খুবই অনুতপ্ত এবং নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে।'
ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে নাইটক্লাব-কাণ্ডে জড়িয়ে টেস্ট মিস করেছিলেন বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন। এবার কার্সের ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ল ইংল্যান্ড। একের পর এক ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন রুট।
'এটা বিচ্ছিন্ন কোনো একক ঘটনা নয়। মূল কথা হলো, আমরা মাঠের বাইরে বারবার এমন বোকামি করছি, যা আমাদের মাঠের পারফরম্যান্সকে ম্লান করে দিচ্ছে।'
দায়িত্ব নেয়ার পর রুটের প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল দলের মধ্যরাতের বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া। সতীর্থদের পরিণত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকছেন তিনি।
রুট বলেন, 'আমি এখনও বিশ্বাস করি না, এটা (মধ্যরাতের বিধিনিষেধ) সঠিক পথ। আমাদের এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করা গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব এবং পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিতে পারব।'
কার্সের ঘটনা ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে নতুন পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে বলেও মনে করেন রুট, 'আমরা যেভাবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই, তা হচ্ছে না। আমার মনে হয়, আমরা এমন এক শক্তিশালী দলগত সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি, যা খেলোয়াড়দের উদ্যোগেই হবে এবং যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব। অবশ্যই এটা রাতারাতি হবে না। তবে আমরা এমন কিছু তৈরি করতে চাই, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব।'
হেডিংলিতে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।