টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক আগ্রহ বাড়াতে নানান উদ্যোগের কথা শোনা যায় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেক। বৈভবের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের লাল বলের ক্রিকেটে ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটও উপকৃত হবে বলে মনে করেন ভারতের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের সাবেক এই পরিচালক। ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পাশাপাশি আইপিএলের অভিজ্ঞতা বৈভবকে তিন সংস্করণের ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করতে পারে মনে করে করেন তিনি।
লন্ডনে ইটিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রিকইনফোকে দ্রাবিড় বলেন, 'আমাদের সব সময় এই ভারসাম্যটা খুঁজে বের করতে হবে। আইপিএলের মাধ্যমে বৈভব সাদা বলের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা পাচ্ছে, এটা দারুণ ব্যাপার। তবে একই সঙ্গে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে লাল বলের ক্রিকেট খেলার সময়ও তাকে দিতে হবে, যাতে এই সংস্করণে সে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে।'
দ্রাবিড়ের মতে, টেস্ট ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে বৈভবের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সব সংস্করণে খেলার জন্য প্রস্তুত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'আমরা সবাই চাই টেস্ট ক্রিকেট টিকে থাকুক, আরও বড় হোক। এ জন্য বৈভবের মতো খেলোয়াড়দের প্রয়োজন, যারা আশা করি সব সংস্করণেই খেলতে পারবে।'
নতুন মৌসুমে দুলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে খেলবেন বৈভব। এই টুর্নামেন্টে টানা কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন দ্রাবিড়। কারণ এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র আটটি ম্যাচ খেলেছেন বৈভব, যেখানে তাঁর ব্যাটিং গড় ১৭.২৫।
দ্রাবিড় বলেন, ‘সে মাত্র ১৫ বছরের। তাকে সময় দিতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে। সে শুরুতেই অনেক সাফল্য পেয়েছে, কিন্তু সামনে তার ভালো ও খারাপ সময় দুটোই আসবে। সবাইকে তার প্রতি ধৈর্যশীল হতে হবে।’
বৈভবের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখনো ধারাবাহিক হতে পারেননি। বয়সভিত্তিক দলের ব্যস্ততার কারণে এত দিন নিয়মিত লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগও পাননি তিনি। তাই দুলীপ ট্রফিতে টানা দুই বা তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ তাঁর উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্রাবিড় মনে করেন, বৈভবকে এখনই ফলাফলের চাপে না রেখে লাল বলের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সে সাফল্য পাবে, আবার এমন সময়ও আসতে পারে যখন কিছুই তার পক্ষে যাবে না। তবে মনে রাখতে হবে, সে মাত্র ১৫ বছরের এবং তার সামনে অনেকটা পথ বাকি। সে বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় না খেলে ভারতীয় ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেট খেলছে, নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। একদিন যদি সাদা বলের মতো লাল বলেও ভালো করতে পারে এবং ভারতের হয়ে টেস্ট খেলে, সেটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও দারুণ রোমাঞ্চকর হবে।’