২৯৯ রানের লক্ষ্য দিয়ে শুরুতেই আফগানিস্তানকে চাপে ফেলে আয়ারল্যান্ড। চতুর্থ ওভারে লিয়াম ম্যাককার্থির বলে পুল করতে গিয়ে আউট হন ইব্রাহিম জাদরান। পরের ওভারেই মিড-অফ থেকে পেছনে দৌড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফেরান জর্জ ডকরেল। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৩০ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
এরপর ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করেন রহমত ও আতাল। ১৩তম ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রতি ওভারে ৭ এর বেশি রান প্রয়োজন হলেও এই দুই ব্যাটার নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যাননি। ১৬তম ওভারে গ্যাভিন হোয়ের বলে ছক্কা মেরে গতি বাড়ানোর শুরু করেন রহমত। তিন বল পরই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তাতে যোগ দেন আতাল।
ক্রিজে থিতু হওয়ার পর আয়ারল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ব্যাটার। দুজনই ফিফটি তুলে নেওয়ার পর নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। ৪০তম ওভারে তাদের জুটি ২০০ রান পূর্ণ করে। তখন ম্যাচ অনেকটাই আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে থামতে হয় আতালকে। তিন অঙ্কে পৌঁছানোর আশায় ম্যাককার্থির লেংথ বল তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। ৯৮ রানে থামে তার ইনিংস। এরপর আর ভুল করেননি রহমত। ৪২তম ওভারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পান আফগান অধিনায়ক।
শেষ দিকে রহমতকে দারুণ সঙ্গ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। মাত্র ১৪ বলে ২৪ রান করেন তিনি। দুজনের ৫৬ রানের জুটিতে জয়ের আরও কাছে চলে যায় আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৪৯তম ওভারে বাউন্ডারি মেরে আফগানিস্তানের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় নিশ্চিত করেন রহমত। আইরিশদের হয়ে ম্যাককার্থি তিনটি ও মুন্দ্রা একটি উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ডকে শুরু থেকেই চাপে রাখে আফগান বোলাররা। সপ্তম ওভারে ওমরজাই পরপর দুই বলে অ্যান্ড্রু বালবার্নি ও পল স্টার্লিংকে ফিরিয়ে দেন। এরপর এএম গাজানফর জোড়া আঘাতে ক্যাড কারমাইকেল ও লরকান টাকারকে ফেরালে বিপদ আরও বাড়ে আয়ারল্যান্ডের।
হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফার ৫৫ রানের জুটি গড়ে দলকে চাপ সামাল দেন। ৫৩ রান করে টেক্টর নাঙ্গেয়ালিয়া খারোটির বলে ফিরলেও ক্যাম্ফার ও ডকরেল মিলে আয়ারল্যান্ডের রান এগিয়ে নেন। তাদের ৭২ রানের জুটিও ভাঙেন ওমরজাই।
তবে শেষ ১০ ওভারে আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয় আয়ারল্যান্ড। সেই ৬০ বলে ১০১ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। ক্যাম্ফার মাত্র চার রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। ইনিংসের শেষ ওভারে সালিম সাফির বলে ৯৬ রানে আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৯৮ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ড। আফগানদের হয়ে ওমরজাই ৩ টি, গাজানফর দুটি এবং শাফি ও খারোটি একটি করে উইকেট নেন।