আয়ারল্যান্ড সিরিজের দুই ম্যাচে স্যামসনের ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ড সফরে তার বদলে সুযোগ পান বৈভব সূর্যবংশী। পরে জিম্বাবুয়ে সফরের দলেও জায়গা হয়নি তার। তবে এসব নিয়ে আক্ষেপে ভুগতে রাজি নন ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সানজু বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, আমাদের দেশে সবসময় একটা ইঁদুর দৌড় চলে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এই দৌড়ে আমি থাকব না। আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই।'
স্যামসন যোগ করেন, 'ঈশ্বরের কৃপায় ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই পেয়েছি। এখন আমি নিজের মতো করেই খেলব। আমাকে কীভাবে ব্যাট করতে হবে বা কী করতে হবে, সেটা অন্য কেউ ঠিক করবে না। সানজুর জন্য সিদ্ধান্ত নেবে সানজুই। দলের জন্য সবসময় নিবেদিত থাকব, ভালো সতীর্থ হওয়ার চেষ্টা করব, কিন্তু খেলব নিজের মতো করেই।’
২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই কোনো পরিকল্পনা করছেন না বলেও জানান তিনি। নিজের খেলাটা খেলে যাবার পর জাতীয় দলে আর সুযোগ না আসলেও কোনো আফসোস থাকবে না তার।
স্যামসন বলেন, ‘২০২৪ বিশ্বকাপের পর আমি ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলব, সেটাও ভাবিনি। একটা সময় তো ১৪ বা ১৫ জনের দলেও ছিলাম না। তাহলে ২০২৮ নিয়ে এখনই কেন ভাবব? যদি দলে প্রয়োজন হয়, আমি ভালো খেলি, তাহলে সুযোগ আসবেই। আর না এলেও আমার কোনো আফসোস নেই। যা অর্জন করেছি, সেটা কেউ আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।’
সাক্ষাৎকারে বিরাট কোহলির সঙ্গে নিজের একটি স্মৃতির কথাও স্মরণ স্যামসন। তিনি জানান, ভারতীয় দলের এক ক্যাম্পে কোহলির কাছ থেকে ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মূল্যবান পরামর্শ পেয়েছিলেন।
স্যামসন বলেন, ‘বিরাট ভাই কেমন মানুষ, সেটা সবাই জানে। তিনি যা বলেন, একদম পরিষ্কার করেই বলেন। জিমে তার পরিশ্রম দেখলে আলাদা একটা আগুন দেখা যায়, সেটা আমার খুব ভালো লাগে। একদিন আমরা একসঙ্গে জিম করছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘পাজি, আমাকেও কিছু বলুন।’ তখন তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হতে চাইলে জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় বিষয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, 'কোন খাবার শরীরের পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে, কোনটা করবে না সবই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই শৃঙ্খলা ১০ বছর ধরে রাখতে পারলে দারুণ ক্যারিয়ার হবে। আমি প্রায় দেড় বছর সেই নিয়ম মেনে চলেছিলাম। কিন্তু এরপর আর আগের মতো ধরে রাখতে পারিনি।'