টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পর পাকিস্তান দল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করার পর শাদাব বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অন্তত একবার বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়েছে, যা আগের প্রজন্ম পারেনি।
সামা টিভিতে এর জবাবে আফ্রিদি বলেন, 'শাদাব একদম ঠিক বলেছে যে আমরা ভারতকে বিশ্বকাপে হারাতে পারিনি। ওদের দল একবার হারিয়েছে এবং সেই জয়ের পর যথেষ্ট সম্মানও পেয়েছে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ওরা। বড় জয়ের পর নিজেদের সমস্যাও সামলাতে পারেনি।'
আফ্রিদি আরও বলেন, 'যখন শাদাব পারফর্ম করতে পারছিল না, তখন আমরা জাতীয় টেলিভিশনে ওর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছি যে, এই ছেলেটা দলের মেরুদণ্ড। আমাদের সময়ে লোকে সমালোচনা করলে আমরা বড় দলের বিপক্ষে পারফর্ম করে জবাব দিতাম। আমাদের জবাব দিতে চাইলে মাঠে পারফর্ম করে দেখাও। বিশ্বকাপ শেষ হতে দাও, পারফরম্যান্সই সব কথা বলবে।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৯ লড়াইয়ে ভারত জিতেছে ৮টিই। কেবল ২০২১ বিশ্বকাপে ভারতকে একটি ম্যাচে হারাতে পারে পাকিস্তান। সেই ম্যাচের দলে ছিলেন শাদাব। পাকিস্তান জিতে নেয় ১০ উইকেটে।
আফ্রিদি আরো বলেন, 'কাজেই শাদাব বেটা, আপনিও পারফরম্যান্স দেখাও! পারফর্ম করে দেখাও বেটা! তোমার কঠিন সময়ে আমরা পাশে থেকেছি। ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলেও জাতীয় দলে এসেছো। আমাদেরকে জবাব দিতে চাইলে মাঠে পারফরম্যান্স করে জবাব দাও। পারফর্ম করে বিশ্বকাপ শেষ হতে দাও, আমরা চুপ করে যাব।'
শাদাবের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলীও। তিনি বলেন, 'তার উচিত হয়নি নিজের শ্বশুরকে (সাকলাইন মুশতাক) নিয়ে এমন কথা বলা। সাকলাইন যে ধরনের ম্যাচ-উইনার ছিল, এরকম ১০টা শাদাব তার পকেটে থাকত। নব্বইয়ের দশকের তদবির করে দলে সুযোগ মিলত না; কেবল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল তৈরি করা হতো। কিছু সাংবাদিকের উচিত তাকে (শাদাব) তার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে জিজ্ঞাসা করা। সে কি বোলিং অলরাউন্ডার নাকি ব্যাটিং অলরাউন্ডার?'
তার দাবি, নব্বইয়ের দশকে কেবল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দল গঠন হতো। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবর, বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও। ইতোমধ্যেই শাদাবকে সতর্ক করা হয়েছে।