ভাগ্যিস আমরা নেপালের বিপক্ষে জিতেছি, উইন্ডিজের কাছে হেরে ব্রুক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
হ্যারি ব্রুক
হ্যারি ব্রুক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
লোকেশ বামের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অঘটনের শিকার হওয়ার খুব কাছেই ছিল ইংল্যান্ড। তবে স্যাম কারানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নেপালের হৃদয় ভেঙে জয় পায় ইংলিশরা। জয়ে বিশ্বকাপ শুরু হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে হোঁচট খেয়েছেন হ্যারি ব্রুকরা। সুপার এইটে যেতে স্কটল্যান্ড ও ইতালি বাঁধা পেরিয়ে যেতে হবে তাদের। নেপালের কাছে জিততে না পারলে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তেন বলে মনে করেন ব্রুক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতে চেপে ধরেছিলেন জফরা আর্চার, কারান। তবে ক্যারিবীয়দের হাল ধরেন শিমরন হেটমায়ার, শেরফান রাদারফোর্ডরা। ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা রাদারফোর্ড খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ৭৬ রানের ইনিংস। শেষের ৫ ওভারে বাঁহাতি ব্যাটারের সঙ্গে ঝড় তোলেন জেসন হোল্ডারও। ৪ ছক্কায় ১৭ বলে করেন ৩৩ রান। তাদের ব্যাটেই ১৯৬ রানের পুঁজি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রান তাড়ায় ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড। ফিল সল্টের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তোলে তারা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বিপক্ষে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ইংলিশরা। আকিল হোসেন, রস্টন চেজ, গুড়াকেশ মোতি মিলে ইংল্যান্ডকে আটকে দিয়েছেন। তিন স্পিনারের শিকার ৬ উইকেট। কারানের ৪৩ রানের ইনিংসের পরও ৩০ রানে হারতে হয়েছে তাদের। ব্রুক মনে করেন, তাড়া করার মতো রান ছিল।

ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেন, ‘দুইশর কাছাকাছি রান তাড়া করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং এবং ভেবেছিলাম পিচ হয়ত আরও ভালো হবে এবং বল আরও একটু বেশি ব্যাটে আসবে। তবে এমন কিছু হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম এই রানটা তাড়া করার মতো ছিল। আমরা শিশির নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম কিন্তু আমরা যেমনটা ভেবেছি তেমনটা হয়নি।’

নিজেদের ব্যাটিং ইন্টেন্টেরও দায় দিচ্ছেন ব্রুক। তিনি বলেন, ‘নিচের দিকে আমাদের যে পরিমাণ পাওয়ার ব্যাটিং আছে আমিসহ, আমার মনে হয় আমি আরও একটু আগে থেকেই খানিকটা ঝুঁকি নিতে পারতাম কারণ আমাদের তখনো জ্যাকসি (উইল জ্যাকস) এবং জেমি ওভারটন ব্যাটিংয়ে আসার মতো ছিল। আমাদের যে সামর্থ্য ও ব্যাটিং গভীরতা আছে তা দিয়ে মনে করি আমরা প্রায় যেকোন কিছুই তাড়া করতে পারি। কিন্তু আজকে আমরা সেটা করতে পারিনি।

‘সি’ গ্রুপে দুই ম্যাচের দুইটিতে জিতে টেবিলের শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটি জয়ে দুই পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে ইংল্যান্ড। রান রেটে এগিয়ে থাকায় এক জয়ে স্কটল্যান্ড আছে দুই নম্বরে। প্রথম ম্যাচেও হারের খুব কাছে ছিল ইংল্যান্ড। লোকেশ যদি শেষ ওভারে একটা বাউন্ডারি বের করতে পারতেন তাহলে অঘটনের শিকার হতে হতো তাদের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর নেপালের বিপক্ষে পাওয়া জয় নিয়ে খানিকটা স্বস্তিতেই ব্রুক। কারণ প্রথম দুই ম্যাচের দুইটিতে হারলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় থাকতে হতো ইংলিশদের। কঠিন এক সমীকরণের মুখে পড়তে হতো সেটা জানেন ব্রুক নিজেও। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেন, ‘ভাগ্যিস গতরাতে আমরা নেপালের বিপক্ষে জিতেছি, নইলে আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তাম।’

আরো পড়ুন: