শুরুতে ব্যাটিং করে ১৫৫ রানের পুঁজি পেয়েছিলো রাজস্থান। দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হলেও লোয়ার মিডল অর্ডারে রিঙ্কু সিং ও অনুকুল রায়ের ব্যাটে দুই বল হাতে রেখে চার উইকেটের জয়ে মৌসুমের প্রথম জয়ের দেখা পায় কলকাতা। বল হাতে প্রথম তিন ওভারে মাত্র আট রান দিয়েই দুই উইকেট পেয়েছিলন জাদেজা। তবুও তাকে বোলিং কোটার চার ওভার সম্পন্ন করাননি রাজস্থান অধিনায়ক পরাগ।
ম্যাচ হেরে এর খেসারতও দিতে হয়েছে রাজস্থান অধিনায়ককে। যদিও দুই বাঁহাতি ব্যাটার ক্রিজে থাকায় বাঁহাতি স্পিনার জাদেজাকে আক্রমণে না আনার কারণ হিসেবে দেখাতে পারেন পরাগ। পরাগের এমন মানসিকতার সমালোচনা করেন অশ্বিন। অশ্বিন মনে করেন, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্পিনারের ওপর আস্থা না রাখায় ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দলের ওপর।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, 'তোমার দলে একজন বিশ্বমানের বাঁহাতি স্পিনার আছে। অবশ্যই, পরিসংখ্যান আর তথ্য কিছুটা ধারণা দিতে পারে, কিন্তু সে তিন ওভারে মাত্র ৯ বা ১১ রান দিয়ে (মূলত ৮ রান) দুইটা উইকেট নিয়েছে। যখন রিঙ্কু সিং মারতে চেষ্টা করছিল, তখন সে আউট হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিল।'
'কিন্তু তুমি ভাবলে, তুমি একজন অফ-স্পিনার; এই দুইজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ওপর চাপ তৈরি করতে পারবে, কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজা পারবে না। যদিও রবি বিষ্ণোই পারে, তবুও তোমার মনে হলো জাড্ডু (জাদেজা) পারবে না। আমি বলছি, এটাই মানসিকতা। এটা হতে পারে যে জাড্ডু (জাদেজা) বল করতে এসে ব্যাটার তাকে দুইটা ছক্কা মারবে, কিন্তু তাকে বলই না করিয়ে তুমি দীর্ঘমেয়াদে তোমার বোলিং ইউনিটের ওপর আস্থা দেখাচ্ছ না।'
বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনার ব্যবহারের ঝুঁকিকে অস্বীকার করছেন না অশ্বিনও। বিশেষ করে ডেথ ওভারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেবার যুক্তিগুলোকেও মানেন তিনি। কিন্তু প্রথম তিন ওভারে দুর্দান্ত বল করা জাদেজার ওপর পরাগ অনাস্থা দেখানোয় জাদেজার আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরার আশংকা করছেন জাতীয় দলে জাদেজার দীর্ঘদিনের সতীর্থ অশ্বিন।
অশ্বিন যোগ করেন, 'যদি একজন বাঁহাতি স্পিনার জানে যে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে তাকে ব্যবহার করা হবে না, তাহলে সে চেষ্টা করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলবে। একজন অধিনায়ক বা টিম ম্যানেজমেন্ট হিসেবে যদি তুমি তাকে বলো, "এটা তোমার কাজ না," তাহলে তার ওপর প্রভাব কেমন হবে, সেটা ভেবে দেখো। তুমি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটা জিতেছ, আর এই ম্যাচে যদি রবীন্দ্র জাদেজা রিঙ্কু সিংয়ের উইকেটটা নিত, তাহলে আজ সে-ই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতো।'
'তুমি হারতেও পারো, কিন্তু বুঝতে হবে—তোমার ভালো বোলারদের দিয়ে বল করিয়েই হারতে হবে। কখনো কি এমন হয় যে তুমি মিচেল মার্শকে ব্যাট করতে পাঠাও না? ঋষভ পান্তকে পাঠাও না? নিকোলাস পুরানকে পাঠাও না? এমনটা কখনোই হয় না। তাই আমি বলছি, যদি তুমি ব্রিজেশ শর্মার মতো একজনকে, যার আইপিএলে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তার প্রথম ম্যাচেই ১৮তম ও ২০তম ওভার করাতে পারো, তাহলে অবশ্যই তুমি জাদেজাকেও দিতে পারো।'