২০১১ থেকে ২০১৭ সময়কালে আইপিএলের কলকাতার অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন গম্ভীর। কলকাতাকে ২০১২ ও ২০১৪ সালে প্রথম দুটো শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন গম্ভীর। অধিনায়ক হিসেবে কলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটা এখনো গম্ভীরের দখলে। ২০২৪ সালে কলকাতার তৃতীয় আইপিএল জয়েও জড়িয়ে আছে গম্ভীরের নাম। সেবার কলকাতার পরামর্শকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
কলকাতার পরামর্শকের দায়িত্ব ছেড়ে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গম্ভীর। টেস্ট ক্রিকেটে এখনো সেভাবে সফলতা না পেলেও সীমিত ওভারে ভারতকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন গম্ভীর। ২০২৫ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পর সবশেষ ঘরের মাঠে জিতেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাও।
২০২৪ আইপিএলের শিরোপা জিতে গম্ভীর কলকাতার দায়িত্ব ছেড়ে যাবার পর আইপিএলে ধুঁকছে দলটি। ২০২৫ সালে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে থেকে শেষ করেছিল তারা। চলতি আসরেও চার ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। কলকাতার এমন দুরাবস্থায় যেকোনো মুল্যে গম্ভীরকে ফিরিয়ে আনাটাই সমাধান বলে মনে করেন মোদি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মোদি লিখেন, 'গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে আমার মনে একটুও সন্দেহ নেই, সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য সেরা ব্যক্তি ছিল। যেমন শেন ওয়ার্নের ক্ষেত্রে ইকুইটি অপশন (দলের মালিকানার ভাগ) ছিল, তেমনভাবে তাকে আকৃষ্ট করতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত যেভাবেই হোক, আমি আবার বলছি, যেভাবেই হোক তাকে আবার ফিরিয়ে আনা। তাকে সব ধরণের সুবিধা দিতে হবে।'
'তাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হবে, স্টক অপশন দিতে হবে। আশা করি তারা (কলকাতা) এতটা বুদ্ধিমান হবে। তাকে দলের মুখ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটা দলের একজন 'প্লেয়ার ফেস' থাকা দরকার। গৌতম হওয়া উচিত কলকাতার "গ্লোবাল মেইন স্ট্র্যাটেজিস্ট"! তার চেয়ে ভালো কেউ নেই।'
যদি গম্ভীরকে দলে আনা হয়, তাহলে মালিকদের পক্ষ থেকে সব ধরণের স্বাধীনতা দেয়া উচিত বলে মনে করেন মোদি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের দলের মধ্যে হস্তক্ষেপ করাটা দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও মনে করেন তিনি।
মোদি আরও যোগ করেন, 'সব ধরণের ক্ষমতা দিয়ে তাকে (গম্ভীর) প্রস্তাব করতে হবে। শূন্য হস্তক্ষেপের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আগামী মৌসুম থেকে আমি আশা করি সব দলের মালিকরা নিজেদের থেকে মনোযোগ সরিয়ে দলের দিকে মনোযোগ দেবেন। দলগুলো এখন পেশাদার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে চলা উচিত। মাঠের খেলায় খুব কম বা কোনো হস্তক্ষেপই করা উচিৎ নয়। এমনকি কাকে কেনা হবে বা হবে না সেই সিদ্ধান্তেও মালিকদের হস্তক্ষেপ করা উচিৎ নয়।'