ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টারে প্রকাশিত নিজের কলামে গাভাস্কার অস্ট্রেলিয়ার এমন পিচকে ‘ট্রাম্পোলিন-বাউন্স’ পিচ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এমন ফলের পরও পিচের সমালোচনা না করে নানা ধরনের অজুহাত দাঁড় করানো হয়। বিশেষ করে কিউরেটর বা টার্ফ এক্সিকিউটিভের ভুলের দোহাই দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে সামনে এনে পিচে বেশি ঘাস রাখার ব্যাখ্যাও দেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
গাভাস্কার বলেন, ‘ওহ, গ্রাউন্ডসম্যান দুঃখিত, টার্ফ এক্সিকিউটিভ-ভুল করেছেন। তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর ভরসা করেছিলেন, যেখানে গরম আবহাওয়া বলা হয়েছিল। তাই তিনি কিছুটা বেশি ঘাস রেখে দিয়েছিলেন এবং সেটাই অতিরিক্ত বাউন্স তৈরি করেছে।’
পিচের সমালোচনা এড়াতে ব্যাটারদের টেকনিকের ঘাটতিকে দায়ী করার প্রবণতাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন গাভাস্কার। তাঁর মতে, ব্যাটাররা বাউন্স সামলাতে পারেননি, এমন ব্যাখ্যা তখনই কিছুটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যখন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা সেই একই পিচে ভালো ব্যাটিং করেন। কিন্তু ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও যখন বড় জুটি গড়তে পারেননি, তখন শুধু ব্যাটারদের টেকনিককে দায়ী করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে গাভাস্কার বলেন, ‘এই শেষ অজুহাতটি হয়তো কিছুটা মেনে নেওয়া যেত, যদি স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা ভালো ব্যাট করত। কিন্তু যখন ঘরের ছেলেরাই একটি রান বা ভালো জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়, তখন সেটি পিচ সম্পর্কে আপনাদের কী বলে?’
ম্যাকাইয়ের পিচ নিয়ে অবশ্য গাভাস্কারের কাছে বিস্ময়ের কিছু নেই। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া কী ধরনের পিচ চাইবে, সেটি অনুমান করা কঠিন ছিল না বলে মনে করেন তিনি। তাঁর দাবি, পিচ তৈরিতে টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো ভূমিকা নেই, এমন দাবি করা হলেও বাস্তবে পর্দার আড়ালে ভিন্ন কিছুই ঘটে।
ভারতীয় এই কিংবদন্তির মতে, ‘ম্যাকাইয়ের পিচ কোনো চমক ছিল না। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশিদের কাছে অস্ট্রেলিয়ানরা অপমানিত হওয়ার পর তারা এমন একটি পিচ তৈরি করবে, যা হবে দ্রুতগতির ও বাউন্সি, এটা জানা কথা। এবং অবশ্যই তারা দাবি করবে যে গ্রাউন্ডসম্যান নিজে থেকেই এটি করেছেন এবং টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে শূন্য নির্দেশনা ছিল। তবে আমরা সবাই জানি পর্দার আড়ালে কী ঘটে।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেতে বাংলাদেশকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে সেটিও নিজের লেখায় তুলে ধরেছেন গাভাস্কার। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর। সেটিও আবার অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত টেস্ট ভেন্যুগুলোর বাইরে। ভারতের ক্ষেত্রেও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস। ১৯৪৭-৪৮ সালের প্রথম সফরের পর দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া সফর করতে ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ২০ বছর, এরপর পরবর্তী সফরের জন্য আরও ১০ বছর।
বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় পর সু্যোগ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পায়, কিন্তু এর ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর উপযুক্ত মনে করে, তাও আবার তাদের অনিয়মিত টেস্ট ভেন্যুতে। ভারতকেও তাদের ১৯৪৭-৪৮ সালের প্রথম সফরের পর দ্বিতীয় সফরের জন্য ১৯৬৭-৬৮ সাল পর্যন্ত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং এরপর অস্ট্রেলিয়ায় তাদের পরবর্তী সফরের জন্য আরও ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।’