ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে পাকিস্তানের ব্যাটাররা একেবারেই মানিয়ে নিতে পারেননি। এর প্রমাণ মিলেছে প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্সে। পাকিস্তান এক সময় পেস বোলিংয়ের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই পেস বোলিং আক্রমণও এখন হারিয়ে গেছে অনেকটাই। পাকিস্তান ঘরের মাঠে স্পিন উইকেট বানিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জিতলেও দেশের বাইরে নিয়মিত ব্যর্থ হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণের ম্যাচে পাকিস্তান দুই ইনিংসে অলআউট হয়েছে যথাক্রমে ১৭১ ও ১৩৫ রানে। বিপরীতে ইংল্যান্ড করেছে ৪০৯ রান। এই স্কোরই প্রমাণ করে পাকিস্তান ইংল্যান্ডের মাটিতে একেবারেই দাঁড়াতে পারেনি। রমিজ পাকিস্তান দলকে ওয়ান ডাইমেনশনাল বলেও কটাক্ষ করেছেন।
বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে রমিজ বলেন, ‘আপনি এমন একটি একমাত্রিক দল তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যারা কেবল নির্দিষ্ট ধরনের উইকেটেই জিততে পারে। আপনি পেস বোলিংকে নিরুৎসাহিত করেছেন। আর এত বেশি খেলোয়াড় টি-টোয়েন্টি খেলতে চায়, কারণ সেটিই সাফল্যের পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই তারা টেস্ট খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।’
১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজ ২ ১ ব্যবধানে জেতা পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন রমিজ। তার মতে, অতীতে কোনো সিরিজে খারাপ শুরু হলেও পাকিস্তানের পেসাররা দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতেন। কিন্তু বর্তমান দলের ক্ষেত্রে সেই আত্মবিশ্বাস তিনি পাচ্ছেন না।
রমিজ বলেন, ‘পেস বোলিংয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য এটি খুবই কঠিন সময়। পেস বোলিং সব সময়ই আমাদের শক্তি ছিল। আমাদের ক্রিকেটের ডিএনএর যে অংশটি আমাদের পূর্ণতা দেয়, সেই স্বকীয়তাই যদি হারিয়ে যায়, তাহলে টেস্ট খেলারই বা কী অর্থ?’
সমর্থকরা পাকিস্তানের ক্রিকেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দাবি করে রমিজ বলেন, ‘প্রথম স্তম্ভটিই পড়ে গেছে, আর সেটি হলো সমর্থকেরা। তারা হতাশ। তারা এই দলকে আর সমর্থন করতে যাচ্ছে না। আর সেটাই বা করবে কেন? সর্বশেষ ২০ টেস্টের ১৭টিতে যদি আপনি হেরে যান, তাহলে কেউই এই দলকে সমর্থন করবে না।’