ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপ জেতানো সিমন্সকে হাসিমুখে দেখা যায় না খুব একটা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সময় পার করা বাংলাদেশ দলের নেপথ্যের কারিগরকে এমন ঐতিহাসিক জয়ের পর হাসতেই হলো। জয়ের পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শেয়ার করা সেই বিশেষ মুহুর্তের দৃশ্যতেই স্পষ্ট কোচ হিসেবে কতটা তৃপ্ত তিনি। জয়ের পর ড্রেসিংরুমে সিমন্স তার শিষ্যদের জানিয়েছন কোচ হিসেবে তার অনুভূতির কথা।
শিষ্যদের উদ্দেশ্যে সিমন্স বলেন, 'আমি এই অনুভূতি অনেকবার পেয়েছি, কিন্তু প্রতিবারই এটা একই রকম থাকে। জেতার অনুভূতি, আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অনুভূতি সহজে আসে না। আমি অনেকবার পেয়েছি, কিন্তু আজও আমি জানি এই মুহূর্তে আমার কেমন লাগছে।'
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এই জয়ের মাহাত্ম্য ভালোই জানা আছে সিমন্সের। কোচ হিসেবে অনেক বড় বড় সাফল্যের দেখা পাওয়া এই কোচ মনে করেন, এই দলের প্রতিটি সদস্যের ক্যারিয়ারেরও সেরা অর্জন হয়ে থাকবে এই জয়।
সিমন্স বলেন, 'খালেদ, টিজে (তাইজুল) অনেক দিন ধরে আছে, অমিত, শরিফুল, সাদমান, হাসান, ইবাদতও আমাদের সঙ্গে অনেক দিন ধরে আছে। তামিমও আছে। এখন হয়তো তোমাদের সবার কাছে এর গুরুত্বটা পুরোপুরি ধরা পড়ছে না। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ দিকে ফিরে তাকালে বুঝবে, এটা তোমাদের ক্যারিয়ারে অর্জন করা সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি।'
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সিমন্স। তার অধীনে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ পাচ্ছে একের পর এক সাফল্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, পাকিস্তানকে প্রথমবার ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের সাফল্যের পর এবার ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, সবই এসেছে ক্যারিবিয়ান এই কোচের হাত ধরে। তবে এখানেই তৃপ্ত নন সিমন্স। যে প্রক্রিয়ায় এই সাফল্য এসেছে সেই প্রক্রিয়া ঠিক রেখে এখন এরচেয়েও বড় কিছুর জন্য শিষ্যদের প্রস্তুত করতে চান এই কোচ।
জয়ের পরেও নিজেদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিমন্স বলেন, 'এখন আমি চাই আমরা একটা বিষয় ধরে রাখি। সাফল্য এবং ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য আমাদের বুঝতে হবে কীভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আজ আবেগ অনেক ওপরে উঠবে। কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, এটাকে খুব বেশি ওপরে উঠতে দেওয়া যাবে না। কারণ সিরিজ জিততে আমাদের এখনো একটি ম্যাচ খেলতে হবে।'
সিমন্স যোগ করেন, 'আমরা সফলভাবে আমাদের সফরের প্রথম অংশ শেষ করেছি। কারণ আমরা এখানে শুধু একটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে আসিনি, দুটি খেলতে এসেছি। এখন একটি শেষ করেছি। সামনে কয়েকটি দিন আছে, এই অনুভূতিটা উপভোগ করতে পারি।'