গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কা সফরের আগে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাঁহাতি ব্যাটারের পরিবর্তে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক বানানো হয় মিরাজকে। তার অধীনে এখনো পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। একমাত্র জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা।
সর্বসাকুল্যে বাংলাদেশকে ২৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১০ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন মিরাজ। তবুও তাকে সরিয়ে দিয়েছে বিসিবি। পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, ‘আমাদের তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক ছিল। এই সিদ্ধান্তে ভুল কিংবা সঠিকের কিছু নেই। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দুজন অধিনায়ক থাকা উচিত।
‘বোর্ডও বিশ্বাস করে দুজন অধিনায়ক থাকা উচিত, সাদা বলের এবং লাল বলের অধিনায়ক। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দুজন অধিনায়ক রাখব। লিটন দাস সাদা বলের অধিনায়ক এবং শান্ত লাল বলের অধিনায়ক হিসেবে চালিয়ে যাবে। সাদা বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় এবং লাল বলের ক্রিকেটে যিনি আছেন উনিই থাকবেন।’
গত কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক ছিলেন তামিম, টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং টেস্টে নেতৃত্ব দিতেন সাকিব আল হাসান। তবে তামিম মনে করেন, তিন ফরম্যাটে আলাদা আলাদা অধিনায়ক থাকলে পরিকল্পনা করতে সমস্যা হয়। যার উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের ইনজুরির বিষয়টি সামনে এনেছেন। অধিনায়ক হিসেবে সবাই দলের সেরা পেসারদের খেলাতে চান।
জিম্বাবুয়ে সফরে সেটা করতে গিয়েই নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের মতো পেসাররা চোটে পড়েছেন। দুই অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘তিনটা অধিনায়ক থাকলে সবচেয়ে বড় যে উদ্বেগের বিষয়। আপনারা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছেন... যে কারণে আমি তিন অধিনায়কের পক্ষে না। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো পেস বোলারের ইনজুরি হয়েছে।’
‘যখন তিনটা অধিনায়ক থাকবে তখন প্রতিটা অধিনায়কই তার ফরম্যাটে চাইবে দলের সেরা পেস বোলারকে খেলাতে। সে তখন এটা চায়। তিনজন অধিনায়ক থাকলে এরকম আরও অনেক কিছুই মোকাবেলা করতে হয়। এখন যখন আপনার সাদা ও লাল বলের অধিনায়ক আছে তখন তারা পরিকল্পনা করতে পারবে।’
অধিনায়কত্বের মতো সহ-অধিনায়কের পদেও পরিবর্তন এনেছে বিসিবি। মিরাজের ডেপুটি হিসেবে ছিলেন শান্ত। তবে লিটনের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দেখা যাবে তাওহীদ হৃদয়কে। টি-টোয়েন্টিতেও লিটনের ডেপুটি হিসেবে আছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তবে টেস্টে শান্তর সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন মিরাজই।