অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়ায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগানোর কথা জানালেন এই সিরিজ দিয়েই দলের দায়িত্ব নেওয়া প্রধান কোচ ডেভিড হেম্প।
সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে হেম্প বলেন, 'আমরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার খেলছি, তাই প্রস্তুতি সত্যিই বেশ ভালো হয়েছে। আমরা ভাগ্যবান যে একটি অনুশীলন ম্যাচ পেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা যেসব উইকেটে অনুশীলন করেছি সেগুলো চমৎকার ছিল।'
তবে প্রস্তুতি যতই ভালো হোক, মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণেই বিশ্বের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। তাদের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনাই যেন নিজেদের ক্রিকেটকে প্রভাবিত না করে, সেটিই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
হেম্পও মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মানসিক দিকটি। তার ভাষায়, 'আমরা এই সত্যটা লুকিয়ে রাখতে পারি না যে আমরা বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে খেলছি, যারা ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি উভয় সংস্করণেই এক নম্বর। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানসিকভাবে সেটিকে জয় করা।'
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই কথা বলছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার নিজেদের মাঠে প্রথমবারের মতো তাদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে প্রতিপক্ষের শক্তির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনও আলাদা পরীক্ষা নেবে নিগার সুলতানাদের।
তবে ফলের হিসাবের চেয়ে নিজেদের ক্রিকেট নিয়ে বেশি ভাবতে চান হেম্প। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুযোগ পেলেও যেন তা কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ না থাকে, সেটিই তার মূল লক্ষ্য। দলের মানসিকতা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা চাই না যে এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আমাদের আফসোস করতে হয় যে, ইস! আমরা যদি এভাবে খেলতাম বা ওভাবে খেলতাম।'
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াই তাই শুধু ব্যবধান কমানোর নয়, নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নামার আগে প্রস্তুতির বড় অংশ শেষ করেছে বাংলাদেশ। এখন সেই প্রস্তুতি মাঠে কতটা কাজে আসে, আর বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে মানসিক বাধা কতটা পেরোতে পারে বাংলাদেশ সেটিই দেখার।