২০২২ সালের পর এই প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারেনি ভারত টি-টোয়েন্টিতে। ভারত বর্তমানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে সর্বশেষ ক্যারিবিয়ানরা নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। মাঠের ক্রিকেটের সঙ্গে আর্থিকভাবেও অন্য বোর্ডগুলোর সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছে ক্যারিবিয়ানরা। কদিন আগেই কেন্দ্রীয় চুক্তির পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এমন অবস্থাতেই স্যামি মনে করেন আর্থিক সহায়তা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে ক্যারিবিয়ানরা। তিনি বলেন, ‘আমার মা সব সময় বলতেন, যেকোনো কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকতে হবে। জীবনে যা-ই করেন না কেন, সেই আন্তরিকতা কখনো হারানো উচিত নয়। আমার মনে হয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পাশে আর্থিকভাবে দাঁড়ানোর মতো কাউকে এখন আমাদের প্রয়োজন।’
অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০১২ ও ২০১৬ সালের শিরোপা জিতেছেন স্যামি। তিনি মনে করেন ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজ ড্র তাদের আলোচনায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ক্যারিবিয়ান কোচ যোগ করেন, ‘বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে এমন সিরিজ আমাদের সেই আলোচনার আরও কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।’
ভারতের সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অনেক বড় অবদান রয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত এখন কোনো বিশ্ব আসরে খেলতে গেলেই সবাই আশায় থাকে তারা শিরোপা জিতবে। অন্যদিকে মাঠের বাইরেও অনেক কিছুর সঙ্গে লড়াই করতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
এ প্রসঙ্গ টেনে স্যামি বলেন, ‘ভারত আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে গেলে প্রতিবারই বিশ্বকাপ জিতবে, এমন প্রত্যাশা থাকে তাদের। কারণ, তারা এর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোথাও খেলতে গেলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের পারফর্ম করতে হয়। এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি ক্ষেত্রে সবকিছু আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা হয়েছে। আর অন্য ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা এখনো সেটাই করছি। আমার মনে হয়, আমরা বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করি, এই সিরিজের পর সংশ্লিষ্ট যারা আছেন ও পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে আলোচনা আরও ইতিবাচক হবে। এমন বিনিয়োগ আসুক, যা আমাদের সব দিক থেকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।’