সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি আগামী বছরের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে সামনে থাকা তিন টেস্টের সিরিজের গুরুত্ব আরও বেশি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই সিরিজের আগে তিন পেসারকে সাত দিনের মধ্যে টানা তিন ওয়ানডে খেলাতে চায় না দল। কামিন্স ও স্টার্ক জিম্বাবুয়ে সফরেও ছিলেন না, আর হ্যাজলউড সেখানে তিন ম্যাচের একটিতে খেলেছেন।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ওয়ানডেতে স্টার্ক ও হ্যাজলউড খেলতে পারেন, আর কামিন্সকে দেখা যেতে পারে পরের ম্যাচে। সিরিজের তিন ম্যাচে তিন পেসারকে এমনভাবে ভাগ করে খেলানোর লক্ষ্য, যাতে কেউ পরপর ম্যাচ না খেলেন এবং ভ্রমণের মধ্যেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান। কামিন্স নিজেও আগেই জানিয়েছিলেন, সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ওয়ানডের মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে এই ব্যবস্থাপনার বড় সুবিধা পেতে পারেন নাথান এলিস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করা এলিস সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষেও সব ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারেন। মিচেল স্টার্কও মনে করেন, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর এলিস আগামী বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা আরও শক্ত করার দাবি তুলেছেন।
ফক্স স্পোর্টসকে স্টার্ক বলেন, 'গত কয়েক বছরে ওয়ানডে বোলার হিসেবে এলিস নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। জশ এক ম্যাচ খেলেছে, আর প্যাট ও আমি ছিলাম না তাই সে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছে। ওয়ানডে দলে নিয়মিত জায়গা পাওয়ার জন্য সে জোরালো দাবি তৈরি করেছে। সাউথ আফ্রিকার এই তিন ম্যাচেও সে ভালো করতে চাইবে।'
তবে তিন মূল পেসার একসঙ্গে ফিরলে এলিসকে কীভাবে একাদশে রাখা হবে, সেটিই এখন অস্ট্রেলিয়ার বড় প্রশ্ন। কামিন্সের মতোই এলিস নতুন বলের পরের সময়, মাঝের ওভার এবং শেষের ওভারে বোলিং করতে পারেন। অন্যদিকে স্টার্ক ও হ্যাজলউড মূলত নতুন বলে উইকেট নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন। ফলে চার পেসারের সমন্বয় নিয়ে নির্বাচকদের সামনে নতুন হিসাব তৈরি হয়েছে। সাউথ আফ্রিকার দ্রুত ও বাউন্সি উইকেটেও এলিসকে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হবে।
কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব মিচেল মার্শের হাতে থাকতে পারে। কামিন্স এখনও অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ওয়ানডে অধিনায়ক হলেও ২০২৩ বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণে মাত্র দুটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মার্শ তার অনুপস্থিতিতে নিয়মিত দায়িত্ব সামলেছেন এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়েছেন। এদিকে কাঁধের সমস্যায় ক্যামেরন গ্রিনের খেলাও এখনো নিশ্চিত নয়।