২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৪৩৯ রান করেছিলেন সূর্যবংশী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলে নজর কাড়েন তিনি। এরপর ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে ভারতের টি-টোয়েন্টি অভিষেক করে গড়েন দেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার রেকর্ড।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সূর্যবংশীর ব্যাটিং নিয়ে রশিদ বলেন, 'সে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে এবং নিজের দক্ষতার ওপর ভরসা রাখে। যেকোনো বোলার ও দলের বিপক্ষে তার নিজের পরিকল্পনা থাকে। এত কম বয়সে এমন পরিণত ভাবনা খুব কমই দেখা যায়। তার পাওয়ার ও চোখ-হাতের সমন্বয়ও অসাধারণ। সে সত্যিই গড-গিফটেড প্রতিভা।'
সূর্যবংশীর সঙ্গে নিজের ছোটবেলার তুলনা টানতেও রাজি নন রশিদ। বরং নিজের সেই বয়সের কথা মনে করে আফগান স্পিনার জানান, সূর্যবংশীর মতো বড় ছক্কা মারার সামর্থ্য তখন তার ছিল না। আইপিএলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তরুণ ব্যাটার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।
আফগানিস্তানের নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেছেন রশিদ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ইব্রাহিম জাদরানের হাতে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। নতুন অধিনায়ককে নিয়ে রশিদের মূল্যায়ন, 'ইব্রাহিম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চায়। সে পরিশ্রমী, সৎ এবং তরুণদের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে চায়। দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ও সতীর্থদের এগিয়ে নিতে তার সামর্থ্য আছে।'
রশিদের নিজের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাও এখন জাদরানের জন্য কাজে লাগাতে চান তিনি। অধিনায়ক হিসেবে সব চাপ নিজের ওপর নেওয়া ঠিক নয় এমন শিক্ষা পেয়েছেন রশিদ। তার মতে, ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে প্রক্রিয়া ও নিজের পরিকল্পনার ওপর মনোযোগ রাখলেই চাপ সামলানো সহজ হয়।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটে বড় দলকে হারানোর আত্মবিশ্বাসও এখন শক্ত হয়েছে বলে মনে করেন রশিদ। ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো থেকে শুরু করে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাফল্য এবং ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা সেই বিশ্বাস তৈরি করেছে। তবে আফগানিস্তানের হয়ে একটি আইসিসি ট্রফি জেতাই এখনো তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
রশিদ বলেন, 'আফগানিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা আমার একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। যতদিন খেলব, একটি আইসিসি ট্রফি জেতার চেষ্টা করে যেতে চাই।'