কর্নের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ২০১৪ সালে ভারতের হয়ে একটি টেস্ট, দুটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের ছাপ রেখেছেন এই লেগ স্পিনার। আইপিএলে তার রয়েছে চারটি শিরোপা।
ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে কার্ন বলেন, ‘এখন আমি অবসর নিতে চাই। এই যাত্রায় যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, সেই পরিবার, বিসিসিআই, রেলওয়ে, ইউপিসিএ, অন্ধ্র, বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং সবার প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এখন থেকে কোচিং ও ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য আমি প্রস্তুত থাকব।’
২০০৭-০৮ মৌসুমে প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় কর্নের। রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে তিন ম্যাচে ১৯.০৪ গড়ে ২১ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর বিসিসিআইয়ের সেরা অনূর্ধ্ব-২৫ ক্রিকেটারের পুরস্কারও পান তিনি।
২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের সীমিত ওভারের দলে জায়গা পান কর্ন। সেই সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে জো রুটকে আউট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট নেন। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হয় তার। সেই সিরিজের ম্যাচেই রোহিত শর্মা ২৬৪ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন। একই বছর অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলেন কর্ন, যেখানে দুই ইনিংসে দুটি করে উইকেট নেন। সেটিই হয়ে থাকে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯৭ ম্যাচে ২৭.৬০ গড়ে কর্নের শিকার ২৭০ উইকেট। এর মধ্যে ১৪ বার পেয়েছেন পাঁচ উইকেট। ব্যাট হাতেও করেছেন ২ হাজার ৮৬৬ রান, যেখানে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও ১৭টি ফিফটি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১২৩ ম্যাচে নিয়েছেন ১৫৩ উইকেট। ১৯১ টি-টোয়েন্টিতে তার উইকেট ১৬৮টি, যার ৮৩টি এসেছে আইপিএলের ৯০ ম্যাচে।
আইপিএলেও কর্নের ক্যারিয়ার ছিল বেশ সফল। ২০১৪ সালের নিলামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে দলে নেয়, যা সে সময় কোনো অনভিষিক্ত ভারতীয় ক্রিকেটারের জন্য রেকর্ড মূল্য ছিল। এরপর টানা তিন মৌসুমে তিনটি ভিন্ন দলের হয়ে আইপিএল শিরোপা জেতেন তিনি—২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ২০১৭ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও ২০১৮ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে।