অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখনও অনেক কিছু প্রমাণ করা বাকি: পোপ

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ
অলি পোপ, ফাইল ফটো
অলি পোপ, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
দীর্ঘ নয় মাস পর আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ফিরেছেন অলি পোপ। অ্যাশেজে ব্যর্থতার কারণে ছিটকে পড়া এই ব্যাটারের সামনে এখন নতুন সুযোগ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে পারফর্ম করে দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অতীতের ব্যর্থতাও ভুলে যেতে চান তিনি।

অ্যাশেজ সিরিজের মাঝপথে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন পোপ। ছয় ইনিংসে মাত্র ২০.৮৩ গড়ে রান করার পর তার জায়গায় সুযোগ পান জ্যাকব বেথেল। তবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টের দলে আবারও ডাক পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার।

দলে ফেরার পর পোপ বলেছেন, ‘মৌসুমের শুরুতে দল যে পরিবর্তন করেছিল, সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। সময়ের সঙ্গে তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলোরও কারণ ছিল। এখন তারা যেটাকে সেরা দল মনে করছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিকল্পনায় আমি আবার জায়গা পেয়েছি, এটা অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়।’

টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬৪ ম্যাচ খেলে ৩৭৩২ রান করেছেন পোপ। পাকিস্তান সিরিজে তিন নম্বরে ব্যাট করার সম্ভাবনা রয়েছে জর্ডান কক্সের, আর ছয় নম্বরে দেখা যেতে পারে ড্যান লরেন্সকে। ফলে পোপ কোন পজিশনে খেলবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। তিন থেকে সাত নম্বর, যেকোনো পজিশনে ব্যাট করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বও সামলাতে পারবেন তিনি।

তবে তার মূল লক্ষ্য আরও বড়। ২০২৭ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চান তিনি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের রেকর্ড বদলে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।এ প্রসঙ্গে পোপ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার এখনও অনেক কিছু প্রমাণ করার বাকি আছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত আট টেস্টে মাত্র ২৮২ রান করেছেন তিনি, গড় ১৭.৬২। কোনো অর্ধশতকও নেই। তবে সেই ব্যর্থতার কারণ মানসিক নয়, বরং নিজের টেকনিক্যাল দুর্বলতা বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত শীতের মৌসুমটা খুব কঠিন ছিল। দুটি খারাপ ম্যাচের কারণেই আমি দল থেকে জায়গা হারিয়েছিলাম। সেই অনুভূতি সত্যিই খুব খারাপ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় আমার সমস্যা মানসিক ছিল। কিন্তু আমি এর সঙ্গে একেবারেই একমত নই। আমার টেকনিক আর খেলাটা তখন সেই মানে ছিল না। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে খেললে সেই দুর্বলতা খুব দ্রুতই ধরা পড়ে।’

স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের অধীনে নতুন কোচিং কাঠামো এবং জো রুটের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট যাত্রায় নিজের জায়গা শক্ত করতে মুখিয়ে আছেন পোপ।

নতুন কোচ ও অধিনায়ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আবার আমাকে বেছে নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগছে। এখন আমার পুরো মনোযোগ নিজের খেলাকে যতটা সম্ভব প্রস্তুত করার দিকে। যদি এই সিরিজে সুযোগ পাই, তাহলে নিশ্চিত করতে চাই আমার টেকনিক ঠিক আছে এবং মানসিকভাবেও আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।’

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনও পোপের দলে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তার মতে, তিন নম্বর নয়, মিডল অর্ডারেই এই ব্যাটারের প্রকৃত জায়গা।

হুসেইন বলেন, ‘অলি পোপ দলে ফিরেছে মূলত একজন অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে। আমার মনে হয়, তার ভবিষ্যৎ আছে, তবে সেটা মিডল অর্ডারে। আমি তাকে তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে দেখি না। সে ওই জায়গার জন্য একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে খেলে। কিন্তু সে এত ভালো ক্রিকেটার যে তাকে আর কখনও সেখানে খেলাবে না এটা বলাও ঠিক হবে না। আমার মতে, পাঁচ বা ছয় নম্বরই তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা।’

আরো পড়ুন: