২০০৭ সালে ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় রোহিতের। ২০১১ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ৫৭ ম্যাচ খেলে দুই সেঞ্চুরিসহ ১২৪৮ রান করেন তিনি। বিশ্বকাপের আগের বছরও যথেষ্ট ভালো ফর্মে থাকলেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাদ দিতে হয়েছিল রোহিতকে, এমনটাই জানিয়েছেন শ্রীকান্ত। ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য জানান, দলের প্রয়োজনে তখন বোলিং করতে পারা ব্যাটারদেরই বেশি প্রাধান্য দিতে হয়েছে তাদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্যা উইক'-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীকান্ত বলেন, 'আমি আজও তার জন্য খারাপ বোধ করি। গত বছর আমি রোহিত শর্মাকে বলেছিলাম, "আমি দুঃখিত, আমি সত্যিই দুঃখিত।"এটা ইচ্ছাকৃত ছিল না, কিন্তু আমরা ওই ধরনের হাফ অলরাউন্ডারদের নিতে চেয়েছিলাম। আমাদের ভাবনা ছিল ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের মতোই দল গড়ার।'
স্কোয়াডে অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব দেবার সুফলও পেয়েছিল ভারত। ১৫ উইকেট আর ৩৬২ রান নিয়ে সেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন যুবরাজ সিং। সুরেশ রায়না, ইউসুফ পাঠানদের মত বোলিংয়ে অবদান রাখতে পারা ব্যাটাররাও দারুণ অবদান রাখেন ২৮ বছর পর দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে।
শ্রীকান্ত আরো যোগ করেন, 'দিনের শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় কে ছিল? যুবরাজ সিং- ব্যাট ও বল দুটোতেই অবদান রেখেছিল। কিছু ম্যাচে শেবাগ, শচিন আর সুরেশ রায়না কয়েক ওভার বলও করেছিল। এমনকি ইউসুফ পাঠান-ও একজন হাফ অলরাউন্ডার।'
'তাই এসব কিছুর মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যা হয়েছিল, এই হাফ অলরাউন্ডার ধারণার কারণে বেচারা রোহিত শর্মা দলে জায়গা পায়নি। আসলে সে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে খেলার মতো যথেষ্ট ভালো ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে বাদ পড়ে যায়।'
সেই বিশ্বকাপের পরপরই ব্যাটার হিসেবে পুনঃজন্ম হয় রোহিতের। মিডল অর্ডার ব্যাটার থেকে পুরদস্তুর ওপেনার বনে যান রোহিত। ২০১৩ সালে দেশকে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শিরোপা জেতাতে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন। পরের এক যুগে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ওপেনার বনে যান রোহিত। ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ানডেতে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির কৃতিত্বও তার। ২০১১ বিশ্বকাপ খেলতে না পারার সেই আক্ষেপ মেটাতে এখন ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন রোহিত।