ভারতের এবিপি নিউজে কথা বলতে গিয়ে শোয়েব নাকভিকে 'অদক্ষ' ও 'অজ্ঞ' বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে পাকিস্তানের আরি নিউজে হাজির হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্য নির্দিষ্টভাবে নাকভিকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোর বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই তিনি কথা বলেছেন।
শোয়েব বলেন, 'আমি 'অদক্ষ ও অজ্ঞ' শব্দ দুটি মহসিন নাকভি ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। মনে হয়েছে যেন তাকেই বলেছি, কিন্তু সেটা বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বলা। এমন কেউ যদি দায়িত্বে থাকে, সে যে কোনো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে পারে, এই ছিল ইঙ্গিত। টিভি চ্যানেল বিষয়টি ঘুরিয়ে উপস্থাপন করেছে।'
তিনি আরো বলেন, 'মহসিন নাকভি ভালো মানুষ। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটকে সাহায্য করতে চান, কিন্তু সঠিক পরামর্শ পান না।'
তবে নাকভির ওপর ক্ষোভ আছে বলেও স্বীকার করেন সাবেক এই পেসার। তার ভাষ্য, ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যুতে নাকভি প্রথমে কঠোর অবস্থান নিলেও পরে সেখান থেকে সরে আসেন, 'আমি রাগান্বিত কারণ তিনি একটি অবস্থান নিয়েছিলেন, কিন্তু তা ধরে রাখেননি। পুরো জাতি তার সঙ্গে ছিল। ইউ-টার্ন নেওয়ার আগে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন।'
এর আগে এবিপি নিউজে আখতার প্রশ্ন তুলেছিলেন, ক্রিকেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকা একজন কীভাবে পিসিবির চেয়ারম্যান হন। 'আপনি যদি আমাকে একটি চ্যানেলের চেয়ারম্যান বানান, আমি কীভাবে সেটি চালাব জানব? এখন এমন একজন আছেন, যিনি জানেন না, অথচ তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। তাহলে দল কীভাবে চলবে?'
'দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো একজন অদক্ষ ব্যক্তিকে বড় দায়িত্ব দেয়া। আপনি যখন কোনো অদক্ষ ও অজ্ঞ ব্যক্তিকে বড় দায়িত্ব দেবেন, সে দেশ ধ্বংস করে দেবে। উদাহরণ তো আপনার সামনেই আছে।'
একই সঙ্গে তিনি দল নির্বাচনের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিকে ঘিরে সমালোচনার প্রসঙ্গে শোয়েব বলেন, 'শাহিন পুরোপুরি ফিট নয়, ১২৫ কিলোমিটার গতিতেও বল করতে পারছে না। বাবর আজম ওপেনিংয়ে না খেললে পারফর্ম করবে না। এই ফরম্যাট তার জন্য নয়।'
সবশেষে সামগ্রিক ব্যর্থতার দায় সবার ওপরই চাপান শোয়েব, 'এই অবস্থার জন্য সবাই দায়ী, আমি, ক্রিকেট বোর্ড, মিডিয়া। আমরা ভুল মানুষকে বেছে নিয়েছি, তাদের তারকা বানিয়েছি। ক্রিকেট অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করিনি।'