রাজনীতি ক্রিকেট ও মানবসমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, দাবি সাকলাইন মুশতাকের

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
উপমহাদেশের বেশিরভাগ ক্রিকেট বোর্ডই দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কথায় ওঠবস করে। সবশেষ কয়েক দশকে সেটার প্রভাব ক্রমশই বেড়েছে। বোর্ডগুলোর সঙ্গে রাজনীতির মানুষদের এমন সম্পর্ক বড় পরিসরে ক্ষতি করছে এশিয়ার ক্রিকেটের। সাকলাইন মুশতাক চাওয়া যাতে খেলাধুলা কিংবা ক্রিকেট থেকে রাজনীতি নির্মূল হয়। পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার মনে করেন, রাজনীতি মানবসমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতা বেশ পুরনো। রাজনৈতিক সম্পর্কের অনবতি হলেও একটা সময় ওয়াসিম আকরাম, ইমরান খানরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতেন রাহুল দ্রাবিড়, শচীন টেন্ডুকারদের সঙ্গে। তবে সবশেষ এক দশকে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ২০১২ সালের পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না ভারত ও পাকিস্তান। ভবিষ্যতেও দুই দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ভারতীয়দের কথায় অন্তত এমনটা স্পষ্ট। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও আইসিসি কিংবা এসিসির টুর্নামেন্টে নিয়মিতই খেলতে দেখা যায় তাদের। যদিও এখনো দুই দল কেবল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে। পাকিস্তানে যেতে রাজি না হওয়ায় গত বছরের শুরুতে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছে ভারত। পেহেলগামের ঘটনার পর দুই দেশ যুদ্ধে জড়ালে মাঠের ক্রিকেটাররা হ্যান্ডশেক করাতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করে। ভারত ও পাকিস্তানের রাজনীতি পুরোপুরি মাঠের ক্রিকেটে দাপট দেখাচ্ছে।

সাকলাইন মুশতাক মনে করেন, রাজনীতি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনীতি আমাদের শত্রু। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানব সমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্রিকেটের উদ্দেশ্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা, দূরত্ব বাড়ানো নয়।’

জনগণের তোপের মুখে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বাধ্য হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাদের এমন সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। সেই অবস্থানে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার।

সাকলাইন মুশতাক বলেন, ‘ক্রিকেট মানে বিনোদন। এটি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আমি তো আগেই স্পষ্ট করে বলেছি আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

আরো পড়ুন: