তৃতীয়বারের চেষ্টায় দ্য হান্ড্রেডের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার

দ্য হান্ড্রেড
দ্য হান্ড্রেড
দ্য হান্ড্রেড
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
লর্ডসে তৃতীয়বারের চেষ্টায় আর ভুল হলো না ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের। তারা দারুণ রোমাঞ্চকর ম্যাচে ট্রেন্ট রকেটসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জিতেছে দ্য হান্ড্রেডের শিরোপা। টিম সেইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫৯ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।

এর আগে ২০২২ সালের ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসের কাছে এবং ২০২৩ সালে ওভাল ইনভিনসিবলসের কাছে হেরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ম্যানচেস্টার। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচেছে সেইফার্টের দুর্দান্ত ৭২ রানের ইনিংসে। ৩৮ বলে ৭২ রান করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটার।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। পুরো টুর্নামেন্টে তার রান ৩৯৪, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদিন টস জিতে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ব্যাটিংয়ে পাঠায় ট্রেন্ট রকেটসকে। শুরুটা ভালোই করেছিলেন ফিন অ্যালেন ও বেন ডাকেট। গাস অ্যাটকিনসন, জশ টাং ও সনি বেকারের পেস সামলে প্রথম উইকেটে ৪৮ রান যোগ করেন তারা।

এরপর জস বাটলার আক্রমণে আনেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার নূর আহমেদকে। ম্যাচের চেহারা বদলে দেন তিনিই। মাত্র চার বলের ব্যবধানে অ্যালেন ও ডাকেটকে ফিরিয়ে দেন নূর। এরপর পাল্টা আক্রমণে যান আনিউরিন ডোনাল্ড। নূরের প্রথম ছয় বলে ১৭ রান তুলে নেন তিনি। তবে ১৯ বলে ৩৮ রান করে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয় তাকে।

ডোনাল্ডের বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৯৭ রানে ৫ উইকেটে দাঁড়ায় ট্রেন্ট রকেটসের সংগ্রহ। তখন মনে হচ্ছিল তারা দেড়শর গন্ডি পেরুতে পারবে না। কিন্তু শেষ দিকে লুইস গ্রেগরি ও মিচেল স্যান্টনারের ব্যাটে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। গ্রেগরি লিয়াম ডসন ও অ্যাটকিনসনের বলে টানা ছক্কা মেরে রানের গতি বাড়িয়ে দেন।

শেষ ৩০ বলে ৬১ রান তুলে ট্রেন্ট রকেটস শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৮ রান করে। ম্যানচেস্টারের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন নূর, দুটি উইকেট পেয়েছেন বেকার। আর একটি করে উইকেট তুলে নেন টাং ও ডসন। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলে ম্যানচেস্টার। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম পাঁচ বল থেকেই ১৪ রান তুলে নেন সেইফার্ট।

পল ওয়াল্টারের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে সেইফার্ট তোলেন ৬৬ রান। মাত্র ২৩ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন সেইফার্ট। ওয়াল্টার ১৪ বলে ২২ রান করে আউট হলে বাটলারকে নিয়ে আরও ৩৪ রান যোগ করেন সেইফার্ট। বাটলার ১৪ বলে তিন ছক্কায় করেন ২৩ রান। লেউস ডু প্লয় ১৮ বলে অপরাজিত ২৭ রান করে জয়ের পথ সহজ করে দেন।

সেইফার্ট শেষদিকে যখন আউট হন ম্যানচেস্টারের তখন প্রয়োজন ২২ বলে ২৩ রান। হেনরিখ ক্লাসেন দুর্দান্ত এক ক্যাচে ডোনাল্ডের হাতে ফিরলে এবং মাইকেল ব্রেসওয়েল দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হলে আবারও ম্যাচ জমে যায়। তবে সেই চাপ সামলে দলকে জয় উপহার দেন ডসন। বেন স্যান্ডারসনের বল মিডউইকেট দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে দিয়ে দুই বল হাতে রেখেই দলের শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি।

আরো পড়ুন: