মিমের সেঞ্চুরিতে দাপট রংপুরের, মুরাদের স্পিনে ২৮২ রানে অলআউট বরিশাল

এনসিএল
মিম মোসাদ্দেক ও হাসান মুরাদ
মিম মোসাদ্দেক ও হাসান মুরাদ
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
প্রথম রাউন্ডে ড্র দিয়ে আসর শুরু করা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের দ্বিতীয় রাউন্ডে শুরু হয়েছে দুর্দান্ত। মিম মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরি ও ইকবাল হোসেনের ফিফটিতে প্রথম দিনেই ৩৭০ রান তুলেছে রংপুর। হাতে এখনো আছে ৪ উইকেট। আরেক ম্যাচে হাসান মুরাদের ৪ উইকেট শিকারে ২৮২ রানে অলআউট হয়েছে বরিশাল। জাওয়াদ আবরারের ফিফটি ও মইন খানের ৯৭ রান করেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ওভারে বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলে দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ায়মে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আকবর আলী। রংপুরের হয়ে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ১৬ রান করা অনিককে ফিরিয়ে ময়মনসিংহকে প্রথম উইকেট এনে দেন আসাদুল্লাহ হিল গালিব। এরপর ইকবাল হোসেনকে সাথে নিয়ে ইনিংস বড় করতে থাকেন মিম।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এই দুইজন যোগ করেন ২০৮ রান। নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন ইকবাল। অন্যদিকে নিজের নবম হাফ সেঞ্চুরিকে পঞ্চম সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন মিম। ১৩৭ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই ব্যাটার। রংপুরের এই বিশাল জুটি ভাঙেন আল আমিন জুনিয়র। মাহফিজুল ইসলাম রবিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৪৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন ইকবাল। অন্যদিকে নিজের সেঞ্চুরিকে দেড়শ রানে নিয়ে যান মিম।

শেষ পর্যন্ত ২১২ বলে ২৩ টি চারে ১৫৭ রানের ইনিংস খেলে আজিজুল হাকিম রনির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। দুই সেট ব্যাটার আউট হবার পর দঃলের হাল ধরেন আবদুল্লাহ আল মামুন। ৮৮ বলে ১ ছক্কা ও ৮ চারে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে আগের ম্যাচে রংপুরের ম্যাচ বাঁচানো অধিনায়ক আকবর খেলেন ৪২ বলে ৩০ রানের ইনিংস। দারুণ একটা দিন কাটিয়ে দিনের শেষ প্রান্তে খেই হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬ উইকেটে ৩৭০ রানে দিন শেষ করে রংপুর। ময়মনসিংহের হয়ে গালিব ও রনি দুইটি করে উইকেট নেন।

দিনের আরেক ম্যাচে কক্সবাজার একাডেমি মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বরিশাল। ধীর-স্থির শুরু করেন দুই ব্যাটার জাওয়াদ ও ইফতেখার ইফতি। ষষ্ঠ ওভারে ইফতিকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম উইকেট দেন এনামুল হক আশিক। ২ রান করেন ইফতি। দ্বিতীয় উইকেটে রাফসান আল মাহমুদকে সাথে নিয়ে ৫০ রান যোগ করেন জাওয়াদ। ২২ বলে ১৮ রান করেন করে আহমেদ শরিফের বলে আউট হন রাফসান। অন্যপ্রান্তে নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ১৩ তম ফিফটি তুলে নেন জাওয়াদ।

৮২ বলে দুই ছক্কা ও ৮ চারে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে আশরাফুল হাসানের বলে আউট হন জাওয়াদ। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৯ রান যোগ করেন হাফিজুর রহমান ও মইন। ৮২ বলে ৪৪ রান করা হাফিজকে বোল্ড করেন হাসান মুরাদ। দারুণ খেলতে থাকা মইন ফিফটি তুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৯৭ রান করা মইনকে ফিরিয়ে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে দেন মুরাদ। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে ২৮২ রানে অলআউট হয় বরিশাল।

চট্টগ্রামের হয়ে মুরাদ চারটি, শরিফ ও রুবেল দুইটি করে উইকেট নেন। দিনের শেষ ঘন্টায় ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে ৭২ রান তোলেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। সাদিক ৩৩ বলে ৪১ রানে এবং জয় ২৯ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন তারা।

আরো পড়ুন: