মিচেল স্টার্কের বলে চার মেরে ইনিংসের শুরুটা ইতিবাচকভাবেই করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই স্টার্কের টানা দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। তার গুড লেংথের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ৩ বলে ১ রান করে ফেরেন সাদমান। পরের বলেই চতুর্থ স্টাম্প লক্ষ্য করে করা ১৩৬ কিমি গতির ইনসুইংয়ে বোল্ড হন মুমিনুল। ৫ রানেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নিজের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তার শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। সহজ ক্যাচটি নেন মিচেল স্টার্ক। ৩৪ বলে ৯ রান করে ফেরেন তানজিদ। ফলে ২৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। তবে দলীয় রান পঞ্চাশ পেরোতেই ভাঙে এই জুটি। নাথান লায়নের ফ্লাইটেড ফুল লেংথের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত। স্টার্কের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ৪৬ বলে ৩১ রান করে ফেরেন তিনি। ৫১ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
শান্তর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাসও। মিচেল স্টার্কের শরীর থেকে দূরের বল তাড়া করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। সহজ ক্যাচটি নেন বেউ ওয়েবস্টার। ১০ বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন লিটন। তার বিদায়ে ৬৩ রানে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
লিটনের পর স্কোরবোর্ডে আর মাত্র পাঁচ রান যোগ হতেই ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। প্যাট কামিন্সের শর্ট বলে আপার কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির হাতে সহজ ক্যাচ দেন তিনি। ১১ বলে এক রান করে ফেরেন মিরাজ। এরপর কামিন্সের শিকার হন হাসান মাহমুদও। তার শর্ট বলে সজোরে শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন হাসান। ক্যাচটি নেন ট্রাভিস হেড। ১১ বলে ২ রান করে ফেরেন তিনি।
হাসান মাহমুদের বিদায়ে ৭০ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস জিততে তখন প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি উইকেট। এরপরও শেষদিকে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যান বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামনে সেই প্রতিরোধও খুব বেশি স্থায়ী হয়নি।
দলীয় ৮২ রানে তাইজুল ইসলামের উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের গুড লেংথের বল ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তাইজুল। ২৪ বলে ৭ রান করে ফেরেন তিনি। তার উইকেটের মধ্য দিয়ে চলতি টেস্টে নিজের দশম উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।
দিনের শুরুতে ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়নের সৌজন্যে ৪৫ রান পায় অস্ট্রেলিয়া। ১০৫ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন গ্রিন। ৬২ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন লায়ন। এই দুজনের কল্যাণে দুইশ পার করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।বাংলাদেশের হয়ে ৪৮ রান খরচায় সাত উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ।