২১ বছর পর হোয়াটমোরের দেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলতে গেছে বাংলাদেশ। সফরের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি টাইগারদের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মত কন্ডিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশের এই দলটার আরো কিছু সময় লাগবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান কোচ।
মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হোয়াটমোর বলেন, 'সবাই আশাবাদী যে তারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের মতো নয়, ওটা একদমই প্রত্যাশিত ছিল না। প্রথম ইনিংসটা মিরাজের জন্য ভালো ছিল, সে সেঞ্চুরি করেছে। তবে যত বেশি আপনি ভিন্ন কন্ডিশনে খেলবেন, তত বেশি আপনি ভালো করবেন।
বাংলাদেশের আরো ভালো প্রস্তুতি প্রয়োজন উল্লেখ করে হোয়াটমোর বলেন, 'আরও অনুশীলন প্রয়োজন। যদি আরও একটা প্রস্তুতি ম্যাচ থাকতো তাহলে ভালো হতো। তবে তারা কঠোর পরিশ্রম করবে যাতে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তুতি নিতে পারে।'
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক 'পেস বিপ্লব' নিয়েও দারুণ উচ্ছ্বসিত হোয়াটমোর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাহিদ রানার মতো পেসার না থাকায় কিছুটা হতাশ তিনিও। হোয়াটমোর প্রশংসা করেছেন, বাংলাদেশে একের পর এক মানসম্মত পেসার উঠে আসার দিকটিকেও।
হোয়াটমোর বলেন, 'আপনারা রানাকে মিস করছেন, তাই না? নাহিদ খুব ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাকে আবার ফিরে আসার আগে ১০০ ভাগ ফিট হতে হবে। পেসাররা ভালো করছে। বাংলাদেশের পেসাররা শ্রীলঙ্কা বা ভারতের মতোই ভালো করছে। পাকিস্তানে তো সবসময়ই ভালো পেসার থাকে। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে ভালো তরুণ ফাস্ট বোলার তুলে আনার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে এবং এই দেশও তার ব্যতিক্রম নয়।'
বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেনি হোয়াটমোর শিষ্যরা। বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্সের দেয়া ১৫৮ রানের জবাবে ৬৯ রানে অল আউট হয় মালয়েশিয়া। তবে, বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচের হার-জিতের চেয়ে নিজেদের প্রস্তুতিটাকেই বড় করে দেখেন হোয়াটমোর।
এ প্রসঙ্গে হোয়াটমোর বলেন, ' এ মাসের শেষে আমাদের একটা বড় টুর্নামেন্ট আছে। তাই আশা করছি বাংলাদেশ আরো ভালো খেলবে। তারা আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে এবং আমরা ঠিক এটাই চাই। আমরা হারছি, গত সপ্তাহে চেন্নাইয়ের একটা টিমের কাছে আমরা বড় ব্যবধানে হেরেছি। আমাদের জন্য ঠিক এটাই দরকার, যা আমাদের সামনের দিকে নিয়ে যাবে এবং আমরা আমাদের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে আসতে পারব।'