গত কয়েক মাসে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ছাড়াও জাপান এবং এশিয়ান গেমসে খেলেছে ভারত। একের পর এক ম্যাচের ধকল থাকলেও সেটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শ্রেয়াস।
ক্রাইস্টচার্চে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমরা একটানা খেলছি জাপান থেকে ভারত, এরপর ভারত থেকে নিউজিল্যান্ড। এখন অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই ধারাটা আমাদের ব্যবস্থার মধ্যেই চলে এসেছে। ঘুম কম হচ্ছে ঠিকই, তবে যত বেশি ম্যাচ খেলব, ততই আমাদের জন্য ভালো।'
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন ভারতের চেয়ে আলাদা হতে পারে, বিশেষ করে পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেটে। তবে আগে থেকেই উইকেট নিয়ে ধারণা করে বসে থাকতে চান না শ্রেয়াস। তার মতে, দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং অনুশীলনে উইকেটের ধরন বুঝে পরিকল্পনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত অধিনায়ক বলেন, 'আমি আগেও এখানে খেলেছি। কন্ডিশন একেবারে আলাদা, এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট দিনে উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা কেউ জানে না। দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। ভালো অনুশীলন হলে প্রত্যেকেই বুঝতে পারবে কীভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।'
এই সিরিজে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ২০২২ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ এই সংস্করণে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। নতুন বল হাতে সুইং করানোর দক্ষতার পাশাপাশি তার অভিজ্ঞতাও দলের কাজে আসবে বলে মনে করেন শ্রেয়াস।
তিনি বলেন, 'ভুবি দলে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। আইপিএলের পর আমাদের দলে বেশ কয়েকজন নতুন বোলার ছিল, তখন এই অভিজ্ঞতার অভাব কিছুটা অনুভব করেছি। গত দুই বছরে তার পারফরম্যান্স দেখুন, আইপিএলও জিতেছে। টি-টোয়েন্টিতে কীভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে হয়, সে সম্পর্কে তার ভালো ধারণা আছে।'
দলে বিকল্প খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি থাকায় একাদশ নির্বাচন ও ব্যাটিং পজিশন নিয়েও প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে সেটিকে সমস্যা নয়, বরং খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে উৎসাহ জোগানোর উপায় হিসেবে দেখছেন শ্রেয়াস। নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও নির্দিষ্ট কোনো দাবি নেই তার। তিন, চার কিংবা পাঁচ দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে প্রস্তুত তিনি।
তিনি বলেন, 'আমি যেকোনো পজিশনে ব্যাট করতে পারি। ম্যাচের পরিস্থিতি কী, সেটার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কন্ডিশন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রত্যেককেই নমনীয় হতে হবে। যে পজিশনই পাওয়া যাক, তাতে খুশি থাকতে হবে।'
ভারতের দলে থাকা তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর সুযোগ নিয়েও কথা বলেছেন শ্রেয়াস। তার মতে, বৈভবের সামনে আরও অনেক সময় রয়েছে। দলের ওপেনাররা ধারাবাহিকভাবে রান করছেন এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছেন। তাই এখনই তরুণ এই ব্যাটারকে একাদশে নেওয়ার তাড়া নেই ভারতের।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। এবার কিউইদের ঘরের মাঠে সেই দুই দলের লড়াইয়ে স্বাগতিকদের কন্ডিশন-সুবিধা থাকবে বলে মনে করেন শ্রেয়াস। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই পার্থক্য গড়ে দেবে বলে তার বিশ্বাস। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টি হবে ২২ ও ২৪ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে। এরপর ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটন, ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ড এবং ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে হবে বাকি তিন ম্যাচ।