বিষয়টি সামনে আসে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) মৌসুম শুরুর আগে খেলোয়াড়দের নথিপত্র যাচাইয়ের সময়। সিএবির তথ্য অনুযায়ী, রোহিতের বয়সের হিসাবে ২৭ মাসের গড়মিল পাওয়া গেছে। তার নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অধীনে থাকা সব রাজ্য সংস্থাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোহিতের পাশাপাশি একই ধরনের অনিয়মের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে সিএবি। এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমার। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বাঁহাতি পেসারের বয়সের হিসাবে ৪০ মাসের বেশি গড়মিল পাওয়া গেছে।
রবি কুমারের ক্ষেত্রে শাস্তি বড়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অভিষেক থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তার সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ২০২২ সালের যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। একই বছর বাংলার সিনিয়র দলেও অভিষেক হয় তার, যদিও ২০২৩ সালের পর আর খেলেননি।
বয়স জালিয়াতি ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন সমস্যা নয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কম বয়স দেখিয়ে খেলার মাধ্যমে তুলনামূলক কম বয়সীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে বিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরেই নথিপত্র যাচাই ও শাস্তির মাধ্যমে এই প্রবণতা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। ২০১৮ সাল থেকেই বয়স জালিয়াতির জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নীতি কার্যকর রয়েছে।
২০২০ সালে বিসিসিআই বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে একটি সাধারণ ক্ষমা নীতিও প্রস্তাব করেছিল। সেখানে খেলোয়াড়দের নিজেদের বয়সের নথিতে ভুল থাকলে তা স্বেচ্ছায় জানিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে কেউ তথ্য গোপন বা নথিতে কারচুপি করেছে প্রমাণিত হলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার বিধান রাখা হয়। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাইয়ের জন্য জন্মনিবন্ধনের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের বিভিন্ন নথিও জমা দিতে হয়।