ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, মিসবাহর পদত্যাগ এখনো গ্রহণ করেনি পিসিবি। শুধু নির্বাচক কমিটি নয়, লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। ফলে পিসিবির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা থেকে এবার পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর পথে তিনি।
মিসবাহর পদত্যাগের প্রস্তাবের ঠিক আগের দিনই পাকিস্তানের টেস্ট দলে বড় পরিবর্তন আনে পিসিবি। লর্ডসে হারের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান, আমির জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় পাঁচজন নতুন মুখের পাশাপাশি সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজালকে দলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাদা বলের কোচিং স্টাফ থেকে মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকেকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই রদবদলের আগে সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় পিসিবি। সরফরাজ ছিলেন টেস্ট দলের প্রধান কোচ, আর গুল ছিলেন বোলিং কোচ। ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান দলের এমন ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্যেই মিসবাহর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে এলো।
২০১৭ সালে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর বিভিন্ন সময়ে পিসিবির একাধিক দায়িত্বে ছিলেন মিসবাহ। ২০১৯ সালে একই সঙ্গে প্রধান কোচ ও প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পান। ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়েন এবং পরের বছর প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান।
২০২২ সালে উপদেষ্টা হিসেবে বোর্ডে ফেরেন মিসবাহ। ২০২৪ সালে নতুন টিম ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে বিলুপ্ত হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স কাপের পাঁচজন মেন্টরের একজন করা হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে নারী দলগুলোর সঙ্গেও মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। গত মাসে মুলতানে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে ৫০ ওভারের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ জেতা পাকিস্তান গোল্ড দলের কোচও ছিলেন মিসবাহ।
চলতি বছর মার্চে চার সদস্যের জাতীয় নির্বাচক কমিটিতে যুক্ত হন মিসবাহ। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন আকিব জাভেদ, সরফরাজ আহমেদ ও আসাদ শফিক। পাশাপাশি পিসিবির সঙ্গে বছরে ১৮০ দিনের চুক্তিতে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শকের দায়িত্বও পালন করছিলেন তিনি। এখন নির্বাচক কমিটি ও একাডেমি ,দুই দায়িত্ব থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবাহ। তবে পিসিবি তার পদত্যাগ গ্রহণ করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।