পাকিস্তানকে ১৭১ রানে অলআউট করার পর ম্যাচের বলটি হাতে নিয়ে মাঠ ছাড়েন রবিনসন ও টাং। পরে বলটি অর্ধেক করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুজন। হেডিংলির মাঠকর্মীরা বলটি মাঝ বরাবর কেটে দুই ভাগ করে দেন।
ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে রবিনসন বলেন, ‘একই ইনিংসে দুজনের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা খুব বেশি হয় না। তাই বলটা ভাগ করে নেওয়া আমাদের জন্য বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।’
বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালকে টাং বলেন, ‘রব্বোই (রবিনসন) বলটা অর্ধেক করার কথা বলেছিল। মাঠকর্মীরা দারুণভাবে কাজটা করে দিয়েছেন। এমন ঘটনা আমি আগে কখনো দেখিনি। নিশ্চয়ই এটা কোথাও রেখে দেব।’
রবিনসনের জন্য দিনটি ছিল আরও বিশেষ। টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রায় ২০ বছর পর প্রথম বোলার হিসেবে এমন কীর্তি গড়েন তিনি। পাকিস্তানের টপ অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের চারজনকেই ফেরান রবিনসন। পরে টাং লোয়ার অর্ডারে ধস নামিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন।
এর মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনেও বড় সময় পার করছেন রবিনসন। গত সপ্তাহেই দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আরেকটি সন্তান পাওয়া সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। তাদের ছেড়ে এসে এমন একটি পারফরম্যান্স দিতে পারাটা দিনটিকে আরও মধুর করেছে। তারা বাড়িতে আছে, তবে পুরো সময়ই তাদের কথা মনে পড়ছিল।’
চোট ও দল থেকে বাদ পড়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত খেলতে পারেননি রবিনসন। এবার ধারাবাহিকভাবে ইংল্যান্ডের হয়ে পারফর্ম করাই তার লক্ষ্য। রবিনসন বলেন, ‘দলের বাইরে থাকার সময় নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি। এই মুহূর্তে নিজেকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। এখন ধারাবাহিক থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
দীর্ঘদিন লাল বলের ক্রিকেটের বাইরে থাকায় এখনো নিজের সেরা ছন্দে ফেরেননি বলেও মনে করেন রবিনসন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লর্ডসের পর আর লাল বলের ক্রিকেট খেলিনি। তাই যতটা ছন্দে থাকার কথা, ততটা নেই। আমি যত বেশি খেলি, সাধারণত তত ভালো হয়ে উঠি। ফিট থেকে মাঠে থাকতে পারলে আশা করি ছন্দটাও ফিরে পাব।’
ইংল্যান্ডের হয়ে নিয়মিত খেলাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। রবিনসন বলেন, ‘আপনি কখনোই ম্যাচ মিস করতে চান না। সব সময় ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে এবং ম্যাচে প্রভাব রাখতে চান। একটি ম্যাচ মিস করেছি, তবে সামনে যেন এমনটা আর না হয়, সেটাই চেষ্টা করব।’