শাহীন আফ্রিদি-মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়েও লাহোরের হার

পিএসএল
পিএসএল
পিএসএল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে সালমান আলী আঘাকে ফেরালেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। একটা সময় মঈন আলী ও মুহাম্মদ ওয়াসিম মিলে লাহোর কালান্দার্সের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। এমন সময় নিজের কোটার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে ওয়ামিসের সঙ্গে মঈনকেও ফেরান শাহীন আফ্রিদি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় লাহোরের অধিনায়কের শিকার ৪ উইকেট। শাহীন আফ্রিদির এমন বোলিংয়ের দিনে উজ্জ্বল মুস্তাফিজুর রহমানও। প্রথম তিন ওভারে আঁটসাঁট বোলিং করা বাঁহাতি পেসার ২০ রানে নিয়েছেন একটি উইকেট। তাদের দুজনের এমন বোলিংয়ের পরও জিততে পারেনি লাহোর। হারিস রউফের করা শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে করাচি কিংস।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে করাচির শুরুটাও ভালো হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফেরেন ওয়ার্নার। শাহীন আফ্রিদির বলে ৮ রান করে আউট হয়েছেন করাচির অধিনায়ক। সুবিধা করতে পারেননি সালমানও। একই ওভারে ডানহাতি ব্যাটারকে ফেরান শাহীন। ১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মুহাম্মদ ওয়াসিম ও সাদ। যদিও দ্রুত রান তুলতে পারেননি তাদের কেউই। তাদের জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাদ।

২১ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি। সেই ওভারে মাত্র এক রান খরচায় এক উইকেট নেন মুস্তাফিজ। নিজের দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার দিয়েছেন ৫ রান। চাপে পড়া করাচিকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ওয়াসিম ও মঈন। তাদের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন শাহীন আফ্রিদি। কোটার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসেই ফেরান ওয়াসিমকে। বাঁহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে থার্ডম্যানের উপর দিয়ে খেলার চেষ্টায় উসামা মীরকে ক্যাচ দিয়েছেন ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে।

একই ওভারে ফিরতে পারতেন মঈনও। তবে বাঁহাতি ব্যাটারের সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি নাইম। যদিও ওভারের শেষ বলে ১৮ রান করা মঈনের উইকেট নিয়েছেন শাহীন। পরবর্তীতে করাচিকে চেপে ধরেন মুস্তাফিজও। ম্যাচ শেষ ওভারে করাচির প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। হারিসের প্রথম তিন বলেই সমীকরণ মেলান আব্বাস আফ্রিদি ও আজম খান। টানা দুই বলে চার-ছক্কা মেরে করাচির জয় নিশ্চিত করেন আব্বাস আফ্রিদি। লাহোরের হয়ে ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি লাহোর। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরেন আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান ফখর জামান। চতুর্থ ওভারে আউট হয়েছেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাইমও। দুই উইকেট হারানোর পর চারে নামেন পারভেজ ইমন। যদিও ব্যাটিংয়ে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না নি। সেভাবে রানও বের করতে পারছিলেন না।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর আব্দুল্লাহ শফিককে হারিয়ে আরও চাপে পড়ে লাহোর। নবম ওভারে সালমানকে ছক্কা মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন পারভেজ ইমন। যদিও পরের বলেই ফিরতে হয়েছে তাকে। ডানহাতি স্পিনারের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন তিনি। করাচির বিপক্ষে এক ছক্কায় ১২ বলে ১২ রান করে ফিরতে হয়েছে ইমনকে।

এরপর হাসিবুল্লাহ ও রাজা মিলে ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ২১ বল খেলা রাজা ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি। থিতু হওয়া হাসিবুল্লাহ আউট হয়েছেন ২৮ রানে। শেষ পর্যন্ত ১২৮ রানের পুঁজি পায় লাহোর। করাচির হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন মঈন, মীর হামজা ও অ্যাডাম জাম্পা।

আরো পড়ুন: