সেঞ্চুরিয়ান তানজিদে মুগ্ধ পন্টিং-ওয়াহ

বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অফ স্টাম্পের বাইরের বেশিরভাগ ডেলিভারিই ছেড়েছেন, স্টাম্পে থাকা ডেলিভারিগুলো অনায়াসে ডিফেন্স করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। টেম্পারমেন্ট ও ধৈর্য্যের পরীক্ষায় উতরে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়েছেন সেঞ্চুরিও। অস্ট্রেলিয়ার পেসত্রয়ীর বিপক্ষে বাঁহাতি ব্যাটারের এমন ইনিংস মুগ্ধ করেছে রিকি পন্টিং, মার্ক ওয়াহদের। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক দুই ক্রিকেটারের বিশ্বাস, ডারউইনের সেঞ্চুরি কখনই ভুলবেন না তানজিদ।

ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে সফল হওয়ার পর তানজিদকে টেস্টেও বিবেচনা করেন নির্বাচকরা। চলতি বছরই পাকিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে তার। ভালো শুরু পেলেও অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলে করতে পেরেছিলেন মাত্র ৩০ রান। কদিন আগে জিম্বাবুয়ে সফরে একাদশে সুযোগই মেলেনি তার।

যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেন করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্সের মতো বোলারদের বিপক্ষে তানজিদ খেলেছেন ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস। হানিফ মোহাম্মদের পর এশিয়ার দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তানজিদকে তাই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পন্টিং।

চ্যানেল সেভেনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটা করার চেয়ে ভালো আর কোনো জায়গা নেই। সেটাও মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে। বাংলাদেশের ধীরগতির ও নিচু উইকেটে খেলে সে বড় হয়েছে। এখানে কন্ডিশন সম্পূর্ণ আলাদা, তবে সে চমৎকার খেলেছে। এটা এমন এক মুহূর্ত, যা সে কখনো ভুলবে না।’

প্রথম দিনের শেষ বিকেলে তানজিদ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন টিভি স্ক্রিনে বারংবার তার ওয়ানডে রেকর্ড দেখানো হয়েছে। সবশেষ ১২ ম্যাচে কতটা ভালো করেছেন সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছে তারা। ধারাভাষ্য কক্ষে বসে ডেভিড ওয়ার্নার, জুলিয়ান ব্রেন্ডনরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন ওয়ানডেতে একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেন তানজিদ। অথচ ডারউইনে খানিকটা উল্টো পথে হেঁটেছেন তিনি।

স্টার্ক, হ্যাজেলউড, কামিন্সদের খেলতে একটু সময় নিয়েছেন। লেট শটে সফলও হয়েছেন। অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের ডেলিভারিতে এজ হয়ে স্লিপে ক্যাচ হওয়ার সুযোগ থাকে সেটাই ভেবেই হয়ত একের পর এক বল ছেড়ে দিয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। সলিড ডিফেন্সে আবার উইকেটও বাঁচিয়েছেন। প্রয়োজনের সময় বাজে বলে বাউন্ডারিও আদায় করেছেন তিনি।

তানজিদের এমন গেইম অ্যাওয়ারনেস মুগ্ধ করেছে পন্টিংকে। তিনি বলেন, ‘তানজিদ মুগ্ধ করেছে। সে বেশ ধৈর্যশীল। ডিফেন্সে পোক্ত। টেকনিক খুবই সহজ—ভালো বলগুলো ডিফেন্ড করা আর খারাপ বলগুলোকে সীমানার বাইরে পাঠানো।’

বাংলাদেশের ওপেনারের প্রশংসা করতে গিয়ে ওয়াহ ফক্স স্পোর্টসে বলেন, ‘কী দারুণ এক মুহূর্ত! এরপর তার ক্যারিয়ারে যা-ই ঘটুক না কেন, ডারউইনে করা সেঞ্চুরি সে কখনো ভুলবে না। বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে কী দারুণ এক ইনিংসই না খেলল!’

আরো পড়ুন: