সব উইকেটই বিশেষ, তবুও স্মিথের উইকেটকে আলাদা করে রাখছেন হাসান

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
হাসান মাহমুদ, ক্রিকফ্রেঞ্জি
হাসান মাহমুদ, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটা স্বপ্নের মতই করে নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর দিন শেষে এক উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। দলের এমন দারুণ শুরুর মূল কারিগর হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। নিজের সবগুলো উইকেটকেই 'বিশেষ' বলছেন এই পেসার। যদিও আলাদা করেছেন স্টিভ স্মিথের উইকেটকে।

হাসানের এই সাফল্যের পেছনে ছিল না কোনো জটিল পরিকল্পনা। বরং অফস্টাম্পের আশপাশে ধারাবাহিকভাবে বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ভুল করার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। একই লাইন ও লেংথে বোলিং করে চাপ তৈরি করেছেন, আর সুযোগ পেলেই কাজে লাগিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তিও গড়েছেন হাসান।

ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছোঁয়ালে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর লেংথের বলে ট্রাভিস হেডের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স অফস্টাম্পের বাইরে লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটনের হাতে। মিচেল স্টার্কও ফুল লেংথের বল খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

হাসান বলেন, 'আমার কাছে সবকটি উইকেটই বিশেষ। পাঁচটি না হলে তো আর পাঁচ উইকেটের সাফল্য হয় না। তবে সকাল থেকে দলের যে শক্তি ছিল এবং সবাই মিলে মাঠে যে চেষ্টা করেছে, এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমার সতীর্থদের দিতে চাই।'

অস্ট্রেলিয়া আট উইকেট হারানোর পরও পরিকল্পনা থেকে সরে যাননি হাসান। লেংথে সামান্য পরিবর্তন এনে কিছুটা ছোট করে বল করেন তিনি। তাতেই ফাঁদে পড়েন স্টিভ স্মিথ। পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এরপর শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নও একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন।

স্মিথের উইকেটটিকে অবশ্য কিছুটা আলাদা করে দেখছেন হাসান, 'আমাদের অধিনায়ক যেভাবে মাঠের মধ্যে সমর্থন দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালোভাবেই শেষ করতে পেরেছি। আলাদা করে বলতে গেলে অবশ্য স্টিভ স্মিথের উইকেটটির কথা বলব। স্মিথ বুঝতে পারছিল না। আমার মনে হচ্ছিল, সে কিছু একটা করতে যাবে। তখন আমি একটা বাউন্সার দিয়েছিলাম এবং সে সেটা মিস করেছে।'

হাসানের ছয় উইকেটে ৫৫ রান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যেও হাসানের এই বোলিং তৃতীয় সেরা।

আরো পড়ুন: