২৩ বছর আগের দল এখন নেই, ৫ দিনই খেলতে চাই: শান্ত

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
নাজমুল হোসেন শান্ত
নাজমুল হোসেন শান্ত
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জুলাই, ২০০৩। এখন থেকে ঠিক ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে মাত্র ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশ দুই টেস্টেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। সেই তিন বছরের শিশু এখন ২৬ বছরের তরুণ। টেস্ট ক্রিকেটেও আস্তে আস্তে নিজেদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করছে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মাঝপথেও পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে থাকা সেটিরই জানান দেয়। তাই, ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তরও বিশ্বাস প্রায় দুই যুগ আগের সেই বাস্তবতা এবার বদলাতে পারবেন তারা। এবারে টেস্টের পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলার ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য ঠিক করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

অস্ট্রেলিয়ার সাথে অনেকটা কালে-ভদ্রে টেস্ট খেলার সুযোগ মেলে বাংলাদেশের। সবশেষ টেস্ট সিরিজ হয়েছিল বাংলাদেশের ঘরের মাটিতে। সেই সিরিজে প্রথমবারের মতো অজিদের টেস্ট হারায় টাইগাররা। ফরম্যাট ভিন্ন হলেও মাত্র মাস দুয়েক আগেই অজিদের ওয়ানডে সিরিজ হারানোর স্মৃতিও সঙ্গী বাংলাদেশের। তাই, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভালো খেলবে বাংলাদেশ, এমনটাই বিশ্বাস অধিনায়কের।

প্রথম টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, 'নির্বাচকের সাথে এটাই কথা হচ্ছিল যে, ২৩ বছর আগের মতো এই দল এখন আর নেই। এই টিমের ওপর উনার বিশ্বাস আছে। আমরা খেলোয়াড় হিসেবে ৫ দিনই ক্রিকেট খেলতে চাই। ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।

শান্ত আরো যোগ করেন, 'আমরা সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, যেটা আমরা সব সময় বলি। একেকটা সেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিন দিন নাকি চার দিন লাগবে- সেই আলোচনা থাকবেই। কিন্তু প্লেয়ার হিসেবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে কত ভালো ক্রিকেট আমরা খেলতে পারি।'

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরে সফর শুরু করেছে শান্তর দল। সেই ম্যাচে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটারদের মূল ম্যাচে সামলাতে হবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডের পেস ত্রয়ীকে। অজিদের এই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ সামলানোকেই প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন শান্ত।

শান্ত বলেন, 'নতুন বলে সব সময় সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। আলাদা কোনো বার্তা নেই। যে-ই ব্যাটিং করুক, সে তার স্বাভাবিক খেলা খেলবে এবং রানের জন্য খেলবে। খুব ভালো একটা বোলিং আক্রমণভাগ বিপক্ষে আমাদের ব্যাটিং করতে হবে। আমরা কতটুকু ধারাবাহিকতা আর মনোযোগ ধরে রাখছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরি কারণ ওদের বোলিং আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী। এই আক্রমণকে সামলাতে হলে আমাদের অনেক বেশি মনোযোগ ও চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।'

ডারউইনের মাটিতে ২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সবশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষেই এই মাঠে খেলেছিল অজিরা। তাই দুই দলের জন্য উইকেট অনেকটা অপরিচিত। তবে, প্রথম টেস্টের আগে সবশেষ অনুশীলনে উইকেট দেখে শান্ত জানিয়েছেন, বোলারদের জন্য কিছুটা বেশি সুবিধা দিতে পারে ডারউইনের উইকেট।

উইকেট প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, 'উইকেটে অবশ্যই স্বাভাবিকভাবেই ঘাস আছে। তবে আমার মনে হয় উইকেটটা ভালো হবে। এখানে বোলিং এবং ব্যাটিং, দুই বিভাগেই সাহায্য থাকবে। তবে বোলাররা হয়তো একটু বেশি সুবিধা পেতে পারে। উইকেট দেখে ভালোই মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ব্যাটিং-বোলিং দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। চেষ্টা করতে হবে দুই বিভাগেই ভালো করার।'

আরো পড়ুন: