এত গরমের মধ্যে নাহিদের ১৪৫ কি.মি. গতির বোলিং, চিন্তাই করতে পারছেন না কেলি

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক নাহিদ রানা
৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক নাহিদ রানা
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
হেনরি নিকোলসের বিপক্ষে নাহিদ রানা প্রথম ডেলিভারিটা করলেন ১৪৪.৭ কিলোমিটার গতিতে। ইনিংসের শেষ বেলায় নিজের বোলিং কোটার শেষ ডেলিভারিটা ডানহাতি পেসার করলেন ১৪৫.৪ কিলোমিটার গতিতে। পুরো ম্যাচ জুড়ে গতিময় বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলেছেন নাহিদ। বৈশাখের খরতাপেও নাহিদের ধারাবাহিকভাবে এমন গতিতে বোলিং করে যাওয়া অবাক করেছে নিক কেলিকে। সফরকারী ব্যাটার জানিয়েছেন, তিনি এমন কিছু চিন্তাই করতে পারছেন না।

সবশেষ পাকিস্তান সিরিজে আগুনে বোলিংয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আঘা, শাহিবজাদা ফারহানদের ভুগিয়েছেন নাহিদ। কদিন আগে পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) গতির ঝলক দেখিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার। সাম্প্রতিক সময়ে গতিময় বোলিংয়ে ব্যাটারদের ‘যম’ হয়ে উঠেছেন তিনি। দেশের সবচেয়ে গতির বোলারও এখন নাহিদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতিতে বোলিংয়ের কীর্তিও আছে।

১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করা তো ডানহাতি পেসারের জন্য নিত্য দিনের ঘটনা। তবে চলতি বৈশাখে একই গতি ধরে রাখা একটু কঠিন। সেটাও করে দেখালেন দারুণভাবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগুনে বোলিংয়ে নিলেন ৫ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়কও তিনি। বাংলাদেশের মানুষের মতো কেলিরও নজর কেড়েছেন নাহিদ। ম্যাচ শেষে তাই প্রশংসা করতে ভুললেন না।

নাহিদকে নিয়ে কেলি বলেন, ‘সে (নাহিদ) আসলেই একজন দারুণ প্রতিভাবান তরুণ। সে বেশ ভালো গতিতে বোলিং করে। আজকের উইকেট তাকে অনেকটা সাহায্য করেছে কারণ ঘাস ছিল। সে এমনিতেই ১৪৫ কিংবা তার চেয়ে বেশি গতিতে বোলিং করছিল এবং সাথে সুইংও পাচ্ছিল। আমার মনে হয় বাংলাদেশ খুব ভালো একজন পেস বোলার পেয়েছে।’

ভিন্ন আরেকটি প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সে (নাহিদ) প্রতিটা স্পেলই দুর্দান্ত গতিতে শুরু করেছে এবং সেটা পুরোটা সময় ধরে রেখেছিল। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের সবসময়ই সতর্ক থাকতে হয়েছে। আমাদের জন্য ওয়ার্ম-আপ বলের কোনো সুযোগই ছিল। সে এসেই একদম ঠিকঠাক বোলিং করেছে। গত ম্যাচেও সে ভালো বোলিং করেছে হয়ত উইকেট পায়নি। আজকে উইকেটে একটু ঘাস ছিল, বাড়তি পেস এবং স্টাম্পে অ্যাটাক করেছে। সে তার পুরস্কারও পেয়েছে। আমাদেরকে এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’

সাম্প্রতিক সময়ে উইকেট নেওয়া যেন নেশা হয়ে গেছে নাহিদের। একটা সময় গতিময় বোলিং করলেও লাইন লেংথ মেইনটেইন করতে পারতেন না তিনি। তবে এখনো গতির সঙ্গে লাইন-লেংথে ব্যাটারদের পরাস্ত করছেন। কখনো পাওয়ার প্লেতে, কখনো মাঝের ওভারে আবার কখনো ডেথ ওভারে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিচ্ছেন। অধিনায়কের যখনই উইকেটের প্রয়োজন হয় তখনই নাহিদের হাতে বল তুলে দেন। সেটার আস্থাও রেখেছেন দারুণভাবে। কেলিও মনে করেন, নাহিদ একজন জেনুইন উইকেটকশিকারি।

কেলি বলেন, ‘সে (নাহিদ) একজন জেনুইন উইকেটশিকারি বোলার। অধিনায়ক তাকে ছোট ছোট স্পেলে ব্যবহার করে যাতে সে জোরে বোলিং করতে পারে, উইকেটে হিট করতে পারে। আমি যেমনটা বললাম প্রথম ম্যাচেও সে দারুণ বোলিং করেছিল হয়ত উইকেট পায়নি। কিন্তু তাকে একইভাবে ব্যবহার করেছে। আমরা হয়ত তাকে আজকের চেয়ে কিছুটা ভালো খেলেছিলাম।’

‘আপনি যেটা বলেছেন সেটা ঠিক। আমি এবং আব্বাস মিলে ছোট একটু জুটি গড়েছিলাম কিন্তু বিরতির পর সে এসে উইকেট নিলো। পরবর্তীতে সে আবারও জুটি ভেঙেছে। পুরো ইনিংস জুড়ে তাকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছে এবং প্রথম বল থেকেই ১৪৫ গতিতে বোলিং করেছে। সে আজকে দারুণ বোলিং করেছে এবং সেটার পুরস্কারও পেয়েছে।’

বাংলাদেশে সাধারণত চৈত্র্য মাসে সবচেয়ে বেশি গরম অনুভব হয়। তবে এবার বৈশাখেও প্রখর রোদ আর গরম সবাইকে হাঁপিয়ে তুলছে। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে মানুষজন। এমন পরিস্থিতিতেও সকাল ১১ টায় ম্যাচ খেলতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। যার ফলে ক্র্যাম্পও হচ্ছে। বাংলাদেশের গরমে অস্থির হয়ে উঠেছেন কেলি। তবে এত গরমেও নিজের গতি ধরে রেখেছেন নাহিদ।

কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০ ওভারের মধ্যে মাত্র একটি ডেলিভারি করেছেন ১২২ কিলোমিটার গতিতে। বাকি সব ডেলিভারি করেছেন ১৪০ কিলোমিটারের উপরে। এমনকি প্রায় চার ঘণ্টা মাঠে থাকার পরও শেষ ডেলিভারি করেছেন ১৪৫ কি.মি গতিতে। এত গরমে নাহিদের এমন গতির বোলিং অবাক করেছে কেলিকে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার জানিয়েছেন, এমন কিছু তিনি চিন্তাই করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি যখন ব্যাটিং করছিলাম তখন গরমে অস্থির লাগছিল। এই গরমে দৌড়ে এসে এত জোরে বোলিং করা, আমি তো চিন্তাই করতে পারছি না। যেমনটা আমি আগেও বলেছি সে প্রথম বল থেকে শেষ বল পর্যন্ত একই গতি ধরে রেখেছে। আমার মনে হয় তার স্পেলের শেষ বলটা ছিল ১৪৫। সে চার ঘণ্টা বাইরে ছিল। তার স্কিল ও শারীরিক দক্ষতা আসলেই দুর্দান্ত।’

আরো পড়ুন: