তামিম ফেসবুকেও রুবেলকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন। অবশেষে সোমবার রুবেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানিয়েছে বিসিবি। মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শুরুর আগে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। বোর্ডের কাছ থেকে এমন সম্মান পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রুবেল।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রুবেল বলেন, 'আবেগী একটু হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি যেহেতু ১২-১৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি এবং এই মিরপুর স্টেডিয়ামে আমার অনেক স্মৃতি আছে, ভালো-মন্দ মিলিয়ে। তো স্বাভাবিক একটু আবেগি হওয়ারই কথা। কিন্তু ভালো লাগছে আমার কাছে, আমাকে এত সুন্দরভাবে সম্মানিত করেছে এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।'
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি ২০১৫ বিশ্বকাপের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন এই স্মৃতিটি বিশেষ তার কাছে। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে ৫৪ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছিলেন রুবেল। ইংলিশদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
সেই মুহূর্ত স্মরণ করে রুবেল বলেন, 'আসলে আমার কয়েকটা স্মরণীয় মুহূর্ত আছে। তার ভেতরে ২০১৫ বিশ্বকাপটা, ওই ম্যাচটা আমার জন্য, আমার সারাজীবনের ক্যারিয়ারের জন্য একটু অন্যরকম স্পেশাল। তো ওই দিনটা আমার জন্য অনেকটা স্মরণীয় বলতে পারেন এবং আমার জীবনের সেরা একটা দিন বলতে পারেন।'
বিসিবির আয়োজনে পেসার হান্ট থেকে জাতীয় দলে উঠে এসেছিলেন রুবেল। সেখান থেকে তাকে তুলে আনার পেছনে বড় অবদান ছিল কোচ সরোয়ার ইমরানের। বিদায়বেলায় এই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রুবেল। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রতিও।
রুবেল যোগ করেন, 'আমি যখন পেসার হান্টে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তখন আমাকে বেছে নিয়েছিলেন আমার প্রিয় কোচ সারোয়ার ইমরান স্যার। তখন আমরা পেস বোলার ছিলামই মাত্র কয়েকজন। কিন্তু এখন বর্তমানে যারা খেলছে সবাই কিন্তু ম্যাচ উইনার এবং সবাই প্রতিভাবান ক্রিকেটার এবং সবাই ফিট। তারাও কিন্তু নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রমাণ করেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে তারা কিন্তু নিয়মিত প্রমাণ করে যে তারা অনেক ভালো প্রিমিয়াম পেস বোলার।'
মাশরাফির কথা বলতে গিতে রুবেল বলেন, 'মাশরাফি ভাই খুবই মজার একজন মানুষ। এমন একটা মানুষ আসলে সে যে ড্রেসিংরুমটাকে সবসময় ছেলেপেলেদের সাথে, জুনিয়র যারা আছে, তার সমবয়সী যারা আছে, সবার সাথে মজা করত আর কি। মাশরাফি ভাইয়ের সাথে আমি যতদিন ক্রিকেট খেলেছি, মাশরাফি ভাই আমাকে যেভাবে দিকনির্দেশনা যে ম্যাচ সিচুয়েশনে যেভাবে বলেছে, আমি আমার শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করেছি।'
কয়েক বছর আগেই ব্যবসায়ী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এই পেসার। ঢাকায় তার একটি মোটর বাইকের শো রুমও রয়েছে। তবে তার এক সময়ের সতীর্থরা তাকে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকারই পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করেন তরুণ পেসারদের সহায়তা করতে তাকে কোচিং করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। রুবেলও জানিয়েছেন ব্যাপারটি ভেবে দেখবেন তিনি।
রুবেল বলেন, 'আমি ওইভাবে এখনো চিন্তাভাবনা করিনি। আমার সতীর্থরাও বলেছে, অনেক সিনিয়ররাও বলেছে যে তুই কোচিংয়ে ঢোক। যেহেতু এত বছর ক্রিকেটে খেলেছিস, তোর উচিত তোর যারা জুনিয়র ছেলেরা আছে, পেস বোলাররা আছে, তো অনেক কিছু তোর দেওয়ার আছে আর কি। তো যাই হোক আমার কাছে এই কথাগুলো খুবই ভালো লেগেছে । ইনশাল্লাহ, আমি এটা নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা করব আর কি। আমি এখনও ওইভাবে চিন্তাভাবনা করিনি যে আসলে আমি কোচিংয়ে ঢুকবো না অন্য কিছু।'
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা রুবেল বাংদেশের হয়ে ওয়ানডেতে ১২৯টি, টেস্টে ৩৬টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ২৮টি উইকেট শিকার করেছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটে তার একটি করে ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তি রয়েছে। ২০২১ সালে শেষবার দেশের জার্সি গায়ে নেমেছিলেন বাগেরহাট এক্সপ্রেস খ্যাত এই পেসার।