হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পিসিবি। সাতজন খেলোয়াড় ও দুই কোচকে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আঘা ও ইমাম উল হকের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে তৃতীয় টেস্টের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মাইক হেসনকে। বার্মিংহামে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর।
পিসিবির এসব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নাসের বলেন, 'হেডিংলির পর আমি মনে করি না বিশ্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল। লর্ডসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কেন একতরফা হচ্ছে, পাকিস্তান কেন এত বাজে খেলছে—এসব নিয়ে আমার কথাগুলো ছিল হতাশা থেকে। এই মহান ক্রিকেটীয় জাতি এখন কোথায় নেমে গেছে, সেটাই দেখে হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু এখন তারা যা করেছে, তাতে পাকিস্তানকে হাসির পাত্র বানিয়ে ফেলেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে তারা।'
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় কাফ মাসলে চোট পান ইমাম। পরে স্ক্যানে চোট ধরা পড়ায় তিনি দ্বিতীয় টেস্টের কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি।। যদিও অনুশীলনে চোট নিয়েই নকিং করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ইমাম নিজেই। তবুও টিভি অনুষ্ঠানে গিয়ে পিসিবির হাই পারফরম্যান্সের পরিচালক আকিভ জাভেদের মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না ইংল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটার।
ইমামের চোটের বিষয়টি যেভাবে সামলানো হয়েছে, সেটিকেও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ব্যাপারটি আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলানো যেত বলে দাবি তার। নাসের বলেন, 'আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, একজন হাই পারফরম্যান্স পরিচালক কীভাবে টেলিভিশনে গিয়ে নিজের একজন খেলোয়াড়কে এভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেন। সে চোট পেয়েছে কি না, সেটাই মূল বিষয়।'
নাসের আরও বলেন, 'অন্য যেকোনো সফরকারী দলের ক্ষেত্রে কোনো খেলোয়াড় কেমন আছে জানতে চাইলে তারা বলবে, তার স্ক্যান হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সে শুধু ব্যাটিং করবে। ইমামের বিষয়টি যেভাবে সামলানো হয়েছে, পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর। আপনাকে কিছুটা হলেও নিজের খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দিতে হবে।'
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। এমন অবস্থায় সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক পাকিস্তান দলের সংকটকে আরও গভীর করেছে।