ব্রিসবেনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে অ্যালেক্স ক্যারিকে পেছনে ফেলে অ্যালান বর্ডার মেডেল জিতেছেন হেড। টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতে রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসনের পর ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে একাধিকবার এই সম্মান অর্জন করলেন তিনি।
চলতি ভোটিং পর্বে অ্যাশেজে ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমে ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করেন হেড। ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া উসমান খাজার বদলে পার্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে নেমে ৮৩ বলে ১২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর অ্যাডিলেডে করেন ১৭০ এবং সিডনিতে ১৬৩ রান।
পুরো ভোটিং পর্বে ১১ টেস্টে হেডের ব্যাট থেকে আসে ৯৭১ রান, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক অ্যালেক্স ক্যারির চেয়ে প্রায় ২০০ বেশি। ক্যারিও ছিলেন দারুণ ধারাবাহিক। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে শেষ পর্যন্ত মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে হেডের কাছে হেরে যান তিনি। এই সময়ে ক্যারি টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি করেন—গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫৬ এবং অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ রান।
অন্যদিকে, অ্যাশেজে সিরিজসেরা হওয়া মিচেল স্টার্ক জিতেছেন 'শেন ওয়ার্ন টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার। ভোটিং পর্বে ১৭.৮০ গড়ে ৫২ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। অ্যাশেজে জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি এবং প্যাট কামিন্সের সীমিত উপস্থিতির মাঝেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯.৯৩ গড়ে ৩১ উইকেট শিকার করেন তিনি।
স্টার্কের বছরটি আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার ম্যাচেই নিজের ১০০তম টেস্ট খেলতে নেমে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে বর্ষসেরা হয়েছেন মিচেল মার্শ। ছয় ম্যাচে ৬০.৮০ গড়ে ৩০৪ রান করে এই স্বীকৃতি পান তিনি। আর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন টিম ডেভিড। ভোটিং পর্বে তিনি ৪৯.৩৭ গড়ে ৩৯৫ রান করেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৭.৫০।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ডারউইনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ব্রিসবেনে এবারের অ্যালান বর্ডার মেডেল প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচি।
এদিকে, নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান 'বেলিন্ডা ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড' আগেই জিতেছেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জেতেন তিনি। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে এবার আগের মতো একসঙ্গে পুরস্কার বিতরণী আয়োজন করতে পারেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
পুরস্কারের ভোট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড়, আম্পায়ার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ৩-২-১ পদ্ধতির ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।