৭৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও খুব বেশি চাপে পড়তে হয়নি পাকিস্তানকে। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টাতেই জয় তুলে নেয় তারা। প্রথম টেস্টে শেষ ইনিংসে ব্যাটিং ধস নামলেও এবার আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়নি।
চতুর্থ দিনের শুরুতে ছয় উইকেটে ১০৩ রান ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে এরপর আর মাত্র ১৪ রান যোগ করতেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে পিছিয়ে থাকা দলটির দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১১৭ রানে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এর আগে ১৯৫৯ সালে ঢাকায় ৭৬ এবং ১৯৮৬ সালে ফয়সালাবাদে ৫৩ রানে অলআউট হয়েছিল ক্যারিবীয়রা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দিকের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের বোলাররা। বাঁহাতি স্পিনার আলী উসমানের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন কেমার রোচ। পরে মোহাম্মাদ আলীর বলে জাস্টিন গ্রেভস আউট হন। দুটি চার মারা শামার জোসেফও বড় শট খেলতে গিয়ে ইনিংস শেষ করেন। আগের দিন মাঠে চোট পাওয়া ব্র্যান্ডন কিং ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।
বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আলী উসমান। বাঁহাতি এই স্পিনার ৩৯ রানে চার উইকেট নেন। আগের দিন চার উইকেট পাওয়া স্পিনার সাজিদ খান চতুর্থ দিনে আর বল করার সুযোগ পাননি।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৯ রান করে আউট হন ইমাম উল হক। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার আজান আওয়াইসও ১৮ রানের বেশি করতে পারেননি। ৪২ রানে দুই উইকেট হারানোর পর বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। দুজনই ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ে দেশের বাইরে টানা আট টেস্ট হারার পর আবারও সাফল্যের দেখা পেল পাকিস্তান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেছিল তারা। আর প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন আবদুল্লাহ শফিক।