২০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের পঞ্চম বলেই মাল্কি মাদারার বলে বোল্ড হন শারমিন সুলতানা। দ্বিতীয় ওভারেই নিমাশা মাদুশানির বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন আরেক ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। পাঁচ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে তখন বিপাকে বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে সাথে নিয়ে ক্ষত মেরামতের লড়াইয়ে নামেন তিনে নামা শারমিন, যদিও সেটি বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
দলীয় ৩৪ রানে দেওমি বিহঙ্গের বলে দুই চারে ১৩ রান করে আউট হন নিগার। এরপর সুপ্তার সাথে জুটি বাঁধেন মোস্তারি। দুই ব্যাটারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ২২তম ওভারেই দলীয় ১০০ রানে পৌঁছে যায় বাঘিনীরা। ১১১ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। ৫৬ বলে ছয়টি চারে ৪১ রানে ব্যাট করতে থাকা মোস্তারি ২৮তম ওভারে দলীয় ১২১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরলে থামে এই জুটি।
মোস্তারি ফিরে গেলেও তার অভাব বুঝতেই দেননি স্বর্ণা আক্তার। এই দুই ব্যাটারের ১০২ বলে ৭৮ রানের আরো একটি দারুণ জুটিতে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ১২৭ বলে ১৩ চারে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রানের ইনিংস খেলে জয় থেকে মাত্র সাত রান দূরে থাকতে আউট হন সুপ্তার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে এক ছক্কা ও তিন চারে ৪৮ বলে ৩৫ রান করা স্বর্ণাও আউট হন পরের ওভারেই। এরপর এক রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরের কাছে গিয়েও হারের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিলো বাংলাদেশের। যদিও নাহিদা আক্তারের ব্যাটে ৯ বল হাতে রেখে তিন উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাঘিনীরা।
এর আগে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় শ্রীলঙ্কার মেয়েরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান তোলেন অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা এবং ইমেশা দুলানি। ১৪ তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন রিতু মনি। লন্কান অধিনায়ক পেরেরাকে ব্যক্তিগত ২৭ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। এক ওভার পরেই হার্শিতা সামারাবিক্রমাকে ফিরিয়ে টানা দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন রিতু।
এরপর ইমেশা আর হানসিমা করুনারত্নে ৫২ রানের জুটি গড়ে লঙ্কানদের বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখান। ইমেশাকে ৫২ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন অফস্পিনার সুলতানা খাতুন। যদিও এরপর হানসিমার ব্যাটে চড়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলো লঙ্কান মেয়েরা। ৩৭ ওভারে তিন উইকেটে ১৬০ রানে পৌঁছে যায় তারা। ৭১ বলে ৫৪ রান করে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন ইনিংসে লঙ্কানদের সেরা ব্যাটার হানসিমা। রাবেয়া খাতুনের হাতে তাকে ক্যাচ বানিয়ে লঙ্কানদের ইনিংসের লাগাম টেনে ধরেন সোবহানা মোস্তারি।
এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। শেষ ১৩ ওভারে মাত্র ৪৫ রান তুলেই বাকি সাত উইকেট হারায় তারা। মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় ২০৫ রানে থামে লঙ্কানদের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে রিতু তিনটি, নাহিদা দুইটি এবং মারুফা আক্তার, সুলতানা খাতুন, রাবেয়া ও মোস্তারি একটি করে উইকেট নেন।