গায়ানার দেয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি লাহোরের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে কোনো রান করার আগেই ফিরে যান ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। পরের ওভারে ম্যাথু ফোর্ড ফেরান ৫ রান করা আরেক ওপেনার শামিল হুসাইনকে। ১৩ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লাহোর। চার নম্বরে ব্যাট করতে আসেন ইমন। আগের ম্যাচে ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস খেলা এই ব্যাটার এদিনও শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারটা একটু রয়ে-সয়ে খেললেও চতুর্থ ওভারেই পেসার ম্যাথু ফোর্ডের ওপর চড়াও হন ইমন। এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন এই ব্যাটার। পরের বলেই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে নিজের দ্বিতীয় বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। এরপর বোলারের লেন্থ আগে থেকেই বুঝতে পেরে পরের বলে লং অনের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত শটে ছক্কা হাঁকান ইমন। ফোর্ডের সেই ওভারেই ইমনের কল্যাণে ১৭ রান তুলে ম্যাচে ফিরে আসে লাহোর।
কিন্তু ইমনের এই ক্যামিও খুব বেশিদূর এগোতে দেননি রোমারিও শেফার্ড। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন ইমন।
ইমন আউট হবার পর আবদুল্লাহ শফিক ও ফারহান ইউসাফ লাহোরের হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুইজনকেই ফেরান গুডাকেশ মোতি। মোতির বলে বোল্ড হবার আগে শফিক করেন ১৩ বলে ২১ রান। অন্যদিকে ফারহানও ১৯ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৮ রান করে আউট হন। এরপর নিয়মিয় বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লাহোর। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয় তারা। গায়ানার হয়ে মোতি চারটি, প্রিটোরিয়াস দুইটি এবং ফোর্ড, শেফার্ড, ইমরান তাহির ও মোহাম্মদ নবি একটি করে উইকেট নেন।
৫৩ রানের জয়ে লাহোরকে সরিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে গায়ানা। তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট এখন স্বাগতিকদের। অন্যদিকে ৩ ম্যাচের দুটিতে জিতে চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে আছে লাহোর।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় গায়ানা। লাহোরের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়ে অর্ধশতক তুলে নেন গুরবাজ। আরেক ওপেনার কুয়েন্টিন স্যাম্পসন ১ রান করে ফিরে গেলেও তিন নম্বরে নেমে গুরবাজকে দারুণ সঙ্গ দেন মোহাম্মদ হারিস। এই দুইজনের ৭২ রানের জুটিতে বড় স্কোড়ের ভিত পায় গায়ানা।
৫ ছক্কা ও ৬ টি চারে ৩৫ বলে ৬৫ রান করে আউট হন গুরবাজ। অন্যদিকে উসামা মীরের বলে বোল্ড হবার আগে হারিস করেন ২৮ বলে ৩৪ রান। মিডল অর্ডারে শিমরন হেটমায়ার, রভম্যান পাওয়েল, নবিরা ব্যর্থ হলে মাঝে কিছুটা চাপে পড়েছিল গায়ানা।
তবে শেষ দিকে শেফার্ডের ২ ছক্কা ও ১ চারে ১৯ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ৯ উইকেটে ১৬৪ রানের সংগ্রহ পায় গায়ানা। উইকেটের পেছনে এদিন সফল ছিলেন ইমন। গ্লাভস হাতে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি দুটি রান আউটেও অবদান ছিল ইমনের। লাহোরের হয়ে মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মেহরান মুমতাজ দুটি করে এবং মোহাম্মদ ইমরান, মীর ও ডেলানো পোটগিয়েটার একটি করে উইকেট নেন।