মিতব্যয়ী বোলিংয়ে মুস্তাফিজের ১ উইকেট, লাহোরের বিশাল জয়

পিএসএল
লাহোর কালান্দার্স
লাহোর কালান্দার্স
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) উদ্বোধনী ম্যাচেই হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে ৬৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে লাহোর। মুস্তাফিজুর রহমান-শাহীন শাহ আফ্রিদিদের বোলিং তোপে এই রানের ধারে কাছেও যেতে পারেনি হায়দরাবাদ। তারা অল আউট হয় ১৩০ রানে। এই ম্যাচে দারুণ মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচা করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিয়েছেন একটি উইকেট।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তুলছিলেন হায়দরাবাদের দুই ওপেনার সাইম আইয়ুব ও উসমান খান। তবে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উসমানকে কট বিহাইন্ড বানিয়ে আউট করেন লাহোরের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। আর আরেক ওপেনার সাইমকে আউট করেন উবাইদ শাহ। উসমান ৯ ও সাইম ১৭ রান করে ফেরেন সাজঘরে।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ডাক পড়ে মুস্তাফিজের। সেই ওভারে একটি ওয়াইডসহ ৪ রান খরচ করেন কাটার মাস্টার। পরের ওভারে সিকান্দার রাজা এসেই লাহোরকে সাফল্য এনে দেন। তিনি এলবিডব্লিউ করে আউট করেন ১ রান করা কুশল পেরেরাকে। দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রথম পাঁচ বলে পাঁচটি সিঙ্গেল দেন মুস্তাফিজ। শেষ বলে আউট করেন ৪ রান করা ইরফান খান নিয়াজিকে।

মুস্তাফিজের অফ কাটার লং অনে উড়িয়ে মেরেছিলেন ইরফান। তবে সীমানা পাড় করতে পারেননি। ধরা পড়েন উবাইদের হাতে। ফলে ৫৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। রাজা দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ফিরতি ক্যাচে আউট করেন একপ্রান্ত আগলে রাখা মার্নাস ল্যাবুশেনকে। অজি এই ব্যাটার আউট হন ২২ বলে ২৬ করে। উইকেট নেয়ার মিছিলে যোগ দেন হারিস রউফও। তিনি আউট করেন ১৪ রান করা হাসান খানকে।

হারিসই বোল্ড করেছেন রিজওয়ান মেহমুদকে। বোল্ড হয়েছেন হাম্মাদ আজমও। তবে তার উইকেট নিয়েছেন উবাইদ। এরপর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি হায়দরাবাদ। মুস্তাফিজ শেষদিকে নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে খরচ করেন মাত্র ৩ রান। আর শেষ ওভারে ৭ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। লাহোরের বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে কোনো মতে একশ পাড় করলেও হায়দরাবাদ ১৩০ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে বিশাল জয় দিয়ে পিএসএল শুরু করে লাহোর।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন ফখর ও নাইম। যদিও সময় যত গড়িয়েছে রান তোলার গতি ততো বাড়িয়েছেন লাহোরের দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৪ রান তোলেন তারা দুজন। দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যেতে থাকা লাহোরের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে নবম ওভারে। হাসানের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন নাইম।

টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরতে হয় ১৯ বলে ৩০ রান করা ডানহাতি ওপেনারকে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে একটু পর হাফ সেঞ্চুরি করেন ফখর। স্পিনার লাবুশেনের বলে চার মেরে ৩৬ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তবে পরের বলেই উইকেট হারায় লাহোর। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফেরেন আব্দুল্লাহ শফিক। ৫ বলে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। পরের ওভারে আউট হয়েছেন ফখর নিজেও।

হাসানের বলে সুইপ করে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন সাইমের হাতে। ১০ চারে ৩৯ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেছেন ফখর। চারে নেমে সুবিধা করতে পারছিলেন না পারভেজ ইমন। তাকে সঙ্গ দেওয়া হাসিবুল্লাহও দ্রুত রান তুলতে পারছিলেন না। একটু পর আউট হয়েছেন পারভেজ ইমন। অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটার। রাইলি মেরেডিথের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়েছেন ১৩ বলে ১৪ রান করে।

ছয়ে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে থাকেন রাজা। যদিও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। মেরেডিথের অফ কাটারে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে ছক্কা মারার চেষ্টায় সাইমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। দুইটি ছক্কা ও চারে ১০ বলে ২৪ রান করেছেন রাজা। একপ্রান্ত আগলে রেখে লাহোরকে এগিয়ে নেওয়া হাসিবুল্লাহ খেলেছেন ২৮ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস। হায়দরাবাদের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান ও মেরেডিথ।

আরো পড়ুন: