বিপরীত চিত্র আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে। ২০১৮ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক, অথচ ৮ বছরে ১৩ টেস্ট খেলেছেন রহমত শাহ-হাশমতউল্লাহ শহীদিরা। আফগানদের চেয়ে কয়েক গুন বেশি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম একাই। প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ১০৫ টেস্ট। বাংলাদেশের মতো এত বেশি টেস্ট খেলতে না পারার আক্ষেপ স্বাগতিকদের। পর্যাপ্ত টেস্ট খেলতে না পারায় আফগানদের উন্নতি মন্থর হয়েছে বলে মনে করেন রিচার্ড পাইবাস।
আফগানিস্তানের প্রধান কোচ বলেন, ‘দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। মুশফিকের মতো তাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা ৮০টিরও (১০৫) বেশি টেস্ট খেলেছেন। তাদের এফটিপিতে টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। অন্যদিকে আফগানিস্তান পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি পায়নি, যা দলের বিকাশকে কিছুটা মন্থর করে দিয়েছে।’
পাইবাস মনে করেন, এক ক্যালেন্ডার বছরে অন্তত ১০টির বেশি টেস্ট খেলা উচিত আফগানিস্তানের। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা নিয়মিত টেস্ট খেলতে পারি, তবে দল খুব দ্রুত শিখবে। আদর্শগতভাবে, এক ক্যালেন্ডার বছরে অন্তত ১০টির বেশি টেস্ট খেলা উচিত। আমরা তা পাইনি, যা বাংলাদেশ পেয়েছে এবং তারা অনেক দীর্ঘ দিন ধরে টেস্ট খেলছে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়া সফরে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ-তানজিদ হাসান তামিমরা। ১১ সেশনের সবকটিতে দাপট দেখিয়ে টেস্ট জিতে নিয়েছে ৯ উইকেট।
এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে সমীহ করছেন পাইবাস। বাংলাদেশের প্রতি সম্মানের কথা জানিয়ে আফগানদের প্রধান কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি আমাদের অনেক সম্মান রয়েছে। তারা অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে একটি অসাধারণ সিরিজ খেলে ফিরেছে এবং তাদের জন্য শুভকামনা।’
আবুধাবির কন্ডিশনে দুই দলেরই সুযোগ দেখছেন পাইবাস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দুই দলের জন্যই কন্ডিশন সমান। আমাদের কেবল নিজেদের শারীরিক শক্তিটা সামলে চলতে হবে। আমি নিশ্চিত বোলাররা ছোট ছোট স্পেলে বল করবে এবং আমাদের বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করতে হবে।’