বাংলাদেশের কাছে হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে অস্ট্রেলিয়ার যে মিল দেখছেন লারা

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
ব্রায়ান লারা, ফাইল ফটো
ব্রায়ান লারা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের হার শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পথে থাকায় তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কতটা প্রস্তুত, সেটিই এখন আলোচনায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা মনে করেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কাছে এই হার ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় টেস্ট জয়। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেই এই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলেও পরিবর্তনের আভাস স্পষ্ট। উসমান খাজা ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন। অন্যদিকে স্টিভ স্মিথ, লায়ন, স্টার্ক, হ্যাজেলউড ও কামিন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররাও ক্যারিয়ারের শেষ দিকে পৌঁছে গেছেন। লারার মতে, এই পরিবর্তনটা একসঙ্গে না করে ধাপে ধাপে করা উচিত।

লারা বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক ক্রিকেটার অবসর নেওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে অবসর নেওয়াটা অনেক ভালো।'

অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়েও খুব একটা আশাবাদী নন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ খেলোয়াড়দের দিকে তাকালে দেখি, অনেক ব্যাটারের গড় ৩০-এর ঘরে। তাই চার-পাঁচজন খেলোয়াড় একসঙ্গে দল ছাড়লে পরিস্থিতি সামলানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

লারার এই আশঙ্কার পেছনে রয়েছে নিজের দলের ইতিহাস। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাধিক কিংবদন্তি অল্প সময়ের ব্যবধানে অবসর নেওয়ার পর দলটি যে সংকটে পড়েছিল, সেটিই অস্ট্রেলিয়ার সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে লারা বলেন, ‘১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল। গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো খেলোয়াড়রা অল্প সময়ের মধ্যে চলে গিয়েছিলেন।'

সেই সময়ের পতন খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন লারা নিজেই। কিংবদন্তিদের বিদায়ের পর মাত্র ২২ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হয়ে উঠতে হয়েছিল তাকে। এরপর দলটি আর আগের সেই অবস্থানে ফিরতে পারেনি। সত্তর ও আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নব্বইয়ের দশক থেকে দীর্ঘ পতনের মধ্য দিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্য পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো নয়। তাদের ক্রিকেট কাঠামো, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া অনেক শক্তিশালী। তবু লারার দাবি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন ও স্মিথের মতো অভিজ্ঞদের বিদায় যদি কাছাকাছি সময়ে ঘটে, তাহলে একসঙ্গে এত শূন্যতা পূরণ করা কঠিন হতে পারে।

আরো পড়ুন: