অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দলের প্রথম টেস্টের আগে তাই ম্যাচের দৈর্ঘ্য নিয়ে কোনো আগাম ধারণা দিতে চাননি কামিন্স। আগামীকাল থেকে ডারউইনে শুরু হবে দুই দলের এই লড়াই। নিজেদের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া বরাবরই শক্তিশালী, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও প্রতিপক্ষকে ভাবাচ্ছে।
কামিন্স বলেন, 'আমার মনে পড়ে না কবে সহজ টেস্ট খেলেছি। আমি নিশ্চিত, তারা শক্তিশালী দল। তাদের দলে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে, যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। টেস্ট ম্যাচের আগে সব সময়ই কিছু অজানা শঙ্কা কাজ করে। তবে গত কয়েক বছরে তারা কিছু বড় জয় পেয়েছে, দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।'
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটিতেই হার, তিনটিতে আবার ইনিংস ব্যবধানে। ২০১৭ সালে মিরপুরে পাওয়া জয়টিই এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য। পরিসংখ্যান তাই অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই কথা বলছে।
তবে অতীতের হিসাব দিয়ে বাংলাদেশকে দেখছেন না কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর। এত দীর্ঘ বিরতির পর এই সফরকে নিয়মিত করার পক্ষেই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
'আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসরগুলোতেও বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি, তবে আমাদের এখানে নিয়মিত খেলা হয় না। বছরের এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে পারাটা দারুণ ব্যাপার বলেই আমার মনে হয়। আমি চাই এমন সুযোগ আরও নিয়মিত আসুক।'
টেস্ট ক্রিকেটের বৈচিত্র্যও কামিন্সের কাছে এই সংস্করণের অন্যতম আকর্ষণ। ভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলার পাশাপাশি প্রতিটি দলের আলাদা ধরনের ক্রিকেট নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে বলে মনে করেন তিনি।
'টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সুন্দর দিক হলো, আপনি ভিন্ন ভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলেন। প্রতিবারই একটা নতুন চ্যালেঞ্জ। একেক দল একটু ভিন্নভাবে ক্রিকেট খেলে। তাই হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই আরও খেলতে চাই।'
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও বেশ ইতিবাচক। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরে ও বাইরে সিরিজ জয় এবং ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে জয় বাংলাদেশের সামর্থ্যের প্রমাণ মিলেছে। সেই দলকে এবার নিজেদের মাটিতে সামলানোর জন্য প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের কয়েকজন বড় মাপের ক্রিকেটার আছেন বলেও স্বীকার করেছেন কামিন্স, 'আমি নিশ্চিত না। হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর আমাকে জিজ্ঞাসা করলে ভালো করে বলতে পারব। তবে তারা এমন একটা দল, যাদের বিপক্ষে আইসিসি ইভেন্টে খেলতে গেলে কিছুটা নার্ভাস থাকতে হয়; কারণ, তাদের কয়েকজন বড় ক্রিকেটার আছে।'