আমরা খুবই ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে টেস্ট খেলতে পারছি: শান্ত

অস্ট্রেলিয়া-বাং
নাজমুল হোসেন শান্ত, ক্রিকফ্রেঞ্জি
নাজমুল হোসেন শান্ত, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমকেই পাল্টা প্রশ্ন করলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছেই জানতে চাইলেন, আসন্ন দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রত্যাশা কী। জবাবে ‘ভালো খেলা’ শুনে হাস্যরস করলেও ‘সম্মান নিয়ে ফেরা’ কথাটিই বেশি পছন্দ হয়েছে তার।

সেই প্রসঙ্গের পরই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তর। চোট, প্রস্তুতি ও সফরের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেন শান্ত। তার মতে, প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দল, তবে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেখানোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি বড় জয়ে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন শান্ত। তার অধীনে পাকিস্তানকে ঘরের এবং বিদেশের মাটিতে দুই দফা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারলেও মোটা দাগে লাল বলে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ।

শান্ত বলেন, 'একটা জিনিস আমি বলতে চাই যেটা আপনি রেজাল্ট নিয়ে বললেন ড্র করা বা জেতা। গত কয়েকটা বছরে আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচ খেলেছি আমরা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা না করে আমাদের প্রক্রিয়াটা কী, আমাদের কোন জায়গায় দূর্বলতা আছে ওইগুলো আমরা কিভাবে উন্নতি করছি, এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে।'

'দেশে খেলি বা দেশের বাইরে খেলি বা যেকোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলি। এই সিরিজেও নতুন কিছু থাকবে না। আমাদের লক্ষ্য থাকবে কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি বা আমাদের প্রক্রিয়াটা কী, আমরা ওইটা ঠিকঠাক করছি কিনা।'

অধিনায়ক মনে করেন, এই সফরে ভালো লড়াই করতে পারলে ভবিষ্যতে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ তৈরি হবে। তাই শুধু ফল নয়, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলাটাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ দল।

শান্ত আরো বলেন, 'প্রতিটি ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং তাদের কতটা কঠিন সময় দিতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুটি ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব।'

এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষারও অবসান হচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ সময়ে কয়েকটি প্রজন্মের ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক জীবন শেষ করলেও সেখানে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন।

নিজের জন্যও এই সফরকে বিশেষ বলে মনে করছেন শান্ত। তার ভাষায়, 'আমার মনে হয়, খুবই ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, যদিও আমরা টেস্টে এত দিন ভালো ক্রিকেট খেলিনি।'

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট সাফল্যের কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক। তবে এটিকে চাপ হিসেবে নয়, ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন তিনি।

শান্ত আরো বলেন, 'এখন আমাদের সমর্থকেরা প্রতিটি ধারাবাহিক প্রতিযোগিতায় অনেক প্রত্যাশা করে। তারা বিশ্বাস করে আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষেই জিততে পারি। ২৩ বছর আগে হয়তো এমন বিশ্বাস ছিল না। আমার কাছে এটিই বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় অর্জন।'

আরো পড়ুন: