অধিনায়কের চেয়ে পারফর্মার মিরাজকে বেশি প্রয়োজন বাংলাদেশের: তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ঠিক এক বছর আগের জুন মাস। হুট করেই ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় নাজনুল হোসেন শান্তকে। শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে নির্বাচকদের সাথে সভা শেষে শান্ত জানতে পারলেন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন না তিনি। এবার মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেবার আগে তার সাথে কথা বলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। তামিম নিশ্চিত করেছেন, মিরাজ ও ক্রিকেট বোর্ড দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই মিরাজকে সরিয়ে লিটন দাসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে দায়িত্ব দেওয়া কিংবা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, দুটোই হয় সাধারণত হুট করে। যার সবশেষ উদাহরণ ছিলেন শান্ত ও মিরাজ। শান্তর সাথে আলোচনা না করেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া কিংবা তার জায়গায় মিরাজকে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি দলের ভেতরের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করেনি তা অনেকটা 'ওপেন সিক্রেট'। ওয়ায়ডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ায় অভিমানে টেস্টের দায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছিলেন শান্ত। সবমিলিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ক্রিকেটেও জলঘোলা কম হয়নি।

‎আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন সেই বোর্ডের দেখানো ভুল পথে হাঁটেননি তামিম। অধিনায়ক পরিবর্তনের সিদ্ধান নেবার আগে যে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন তার সবকিছুই করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি। মিরাজ ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পারেন এমন আশাও দেখেন তামিম।

‎বিসিবি সভা শেষে সংবাদ সম্মলেনে তামিম বলেন, ‘মিরাজের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। আমাদের যে প্রক্রিয়টা অনুসরণ করা উচিত ছিল সেটা করেছি। আমি তাকে ব্যাখ্যা করেছি, সে আমাকে ব্যাখ্যা করেছে। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবারও বলছি মিরাজের জন্য আমার পূর্ণ সম্মান আছে। মিরাজ আগামীতে আবারও নেতৃত্ব পেতে পারে। ’

তামিম যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চিত সে নেতৃত্ব পাবে। অল্প সময়ের মধ্যে সে বাংলাদেশকে যে সার্ভিস দিয়েছে সেটার জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। তার যতটুকু সামর্থ্য ছিল পুরোটাই দিয়েছে। তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও পূর্ণ সম্মান রয়েছে।’

‎অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের যাত্রাটা অনেকটা অম্ল -মধুর। শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হেরে নিজের অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন মিরাজ। এরপর ধীরে ধীরে মিরাজের দল ছন্দ পেতে শুরু করে। মিরাজের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ।

‎অধিনায়ক মিরাজের সবচেয়ে বড় অর্জনটি আসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সবশেষ সিরিজে। প্রথমবারের মতো অজিদের সিরিজ হারায় টাইগাররা। তবে অজিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ হারার পরপরই অধিনায়কত্ব হারালেন এই অলরাউন্ডার। সব মিলিয়ে ২৪ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ১০ ম্যাচে জয় পেয়েছেন মিরাজ, হেরেছেন ১৩ টিতে। বাকি একটি ম্যাচ হয়েছে টাই।

‎অধিনায়ক মিরাজের পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ড আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেছে খেলোয়াড় মিরাজকেও। অধিনায়কত্বের চাপ মিরাজের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে বলে মনে করেব বিসিবি সভাপতি। মিরাজ নিজের সামর্থ্য ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাট হাতে পারফর্ম করতে পারছেন না বলেও মনে করেন তামিম। চাপমুক্ত হয়ে মিরাজ ব্যাট-বল দুই ভূমিকাতেই ছন্দে ফিরবেন বলে প্রত্যাশা তার।

‎এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘এটা বলাটা খুবই জরুরি। মিরাজ খুবই সফল একজন অধিনায়ক। আপনি যদি গত পাঁচটা সিরিজ দেখেন চারটা সিরিজ সে জিতেছে। সে দারুণ করেছে। কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে মিরাজ একজন ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তামিম যোগ করেন, ‘মিরাজকে একজন পারফর্মার হিসেবে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত খুব সম্ভবত ওই পর্যায়ে আমরা দেখছি না। এটা বলছি না যে সে পারফর্ম করছে না। যেটাতে আমরা অভ্যস্ত ওই জায়গাতে দেখছি না। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। বোলিংয়ে এখনো খুব ভালো করছে। সে যত তাড়াতাড়ি ছন্দে ফিরবে বাংলাদেশ তত বেশি উপকৃত হবে।’

আরো পড়ুন: