টেস্ট ক্রিকেটে সময়টা বেশ ভালো কাটছে শান্তর। গত বছরের জুনে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার। সেঞ্চুরি করেছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও। সেই ছন্দে ধরে রাখেন পাকিস্তানের বিপক্ষেও। ঢাকা টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামকে হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চাপে তখন ব্যাটিংয়ে এসেই কাউন্টার অ্যাটাক করেন শান্ত। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন সেঞ্চুরিও।
যদিও একশ ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। সেঞ্চুরি করার পরে বলেই মোহাম্মদ আব্বাসকে উইকেট দিয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও খেলেছেন ৮৭ রানের ইনিংস। ১৮৮ রান করে মিরপুর টেস্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন শান্ত। ম্যাচসেরা হয়েও প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং নিয়ে হতাশ হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, তিনি সেরা ছন্দে আছেন এমনটা বলতে চান না।
সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমার ব্যাটিং বলব যে না, আমার মনে হয় যে আমার জায়গায় যদি অন্য কোন বড় ব্যাটসম্যান থাকতো ১০১টা হয়তো ২০০ হতো। এটা খুবই সত্য কথা। আপনি বিশ্ব ক্রিকেটে যদি দেখেন যে এরকমই করে যারা সেরা ব্যাটসম্যান। আমার মনে হয় যে আমি বলব না যে আমি আমার সেরা ছন্দে আছি। আমি মনে করি যে আমার আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল প্রথম ইনিংসে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসে ইনিংসটা আরও বড় হতে পারত। যেভাবে আমি ব্যাটিং করছিলাম, উইকেটটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল বিশেষ করে প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা। এরপর ইনিংসটা আরও বড় হতে পারত। দ্বিতীয় ইনিংসে আমি যেভাবে ব্যাটিং করতে চেয়েছি তা পেরেছি। ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর দিনের উইকেট কঠিন থাকে, আজ ৫ নম্বর দিনেও ব্যাটিং করলাম। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ভালো হয়েছে কিন্তু প্রথম ইনিংসে আরও বড় হতে পারতো।’
গত বছর গলে মুশফিকের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়েছিলেন শান্ত। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে জুটি গড়েন মুমিনুল হকের সঙ্গে। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাস, মুশফিক, মুমিনুল সবার সঙ্গেই জুটি গড়েছেন। তাদের কার সঙ্গে ব্যাটিং করতে উপভোগ করেন এমন প্রশ্নে অবশ্য কারও নাম নিলেন না তিনি। বরং জানালেন, সবার সঙ্গেই ব্যাটিং উপভোগ করেন।
শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং সবসময় উপভোগ করি। রান না করলে শুধু উপভোগ করি না। ভালো লাগছে ব্যাটিং ভালো হচ্ছে। ব্যাটিং সবার সাথেই ভালো লাগে। বিশেষ কোনো ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমার মনে হয় মুশফিক ভাই, মুমিনুল ভাই, লিটন—লিটনের সাথে যদিও কম ব্যাটিং করার সুযোগ হয় টেস্ট ক্রিকেটে। সবার সাথেই উপভোগ করি।’
বাংলাদেশের জার্সিতে এখনো পর্যন্ত ৪০ টেস্ট খেলেছেন শান্ত। যেখানে ১৫টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। যার নয়টিকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ পঞ্চাশকে একশতে রূপান্তর করেছেন তিনি। শতাংশের হিসেবে শান্তর চেয়ে ভালো রেকর্ড আছে কেবল ডন ব্র্যাডম্যান (৬৯.০৫) ও জর্জ হ্যাডলির (৬৬.৬৭)। তবে তাদের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চান না শান্ত।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রথমে আপনি যে দুইটা (ব্র্যাডম্যান ও হ্যাডলি) নামের কথা বলেছেন, এই নাম আমার সাথে যায় না একদম। মানে মাফ করে দেন আমাকে, এই নাম আসলে হয় না। আমার মনে হয় ব্যাটিংটা আমি উপভোগ করি। আমি যখন ব্যাটিং করি আমি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে চিন্তা করি। অধিনায়কত্ব টস করার কাজ, ফিল্ড প্লেসমেন্ট করা, বোলিং পরিবর্তন—এগুলো তো মাঠের ভেতরে। কিন্তু আমি যখন ব্যাটিং করি আমি একজন ব্যাটসম্যান, আমার দায়িত্ব রান করা। আমি ওইভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করি।’