এই ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, 'আমিনুল হকের মতো একজন স্বনামধন্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া বাংলাদেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতীয় ফুটবল দলকে গর্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি ক্রীড়াবিদদের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা সরাসরি বোঝেন। আমি আত্মবিশ্বাসী, একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়ার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। দেশের সব স্তরে ক্রীড়ার উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, যাতে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সুযোগ পেতে পারেন।'
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সময় নির্ধারিত হয়। সকাল থেকেই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের ফোন করা হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। আমিনুল হকও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে শপথ নেন।
যদিও তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা আমিনুল দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন। গোলরক্ষক হয়েও ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন তিনি।
জাতীয় দলে এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১০ এসএ গেমসে ছিলেন দলের অধিনায়ক। পেনাল্টি রুখতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিল।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির সঙ্গে। দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হন বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিল। জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ক্রীড়াঙ্গন ও দলীয় অবদানের বিবেচনায় তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার আলোচনা চলছিল।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজ উদ্দিন প্রথম মন্ত্রীত্ব পান। পরে আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন। এছাড়া সাদেক হোসেন খোকা, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ আরও অনেকে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন, তবে কেউ টেকনোক্র্যাট ছিলেন না।