টেকনোলজি আমাকে বাঁচিয়েছে, আম্পায়ার আউট দিলে চলে যেতাম: স্মিথ

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইবাদত হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন স্টিভ স্মিথ। তবে ব্যাটার কানায় লেগে বল চলে যায় তৃতীয় স্লিপে থাকা তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। বল কিছুটা নিচু হলেও ক্যাচটি নেওয়ার মতোই ছিল। তবে স্মিথের মতো ব্যাটারের সেই ক্যাচটা লুফে নিতে পারেননি তানজিদ। একটু পর আবারও বেঁচে যান স্মিথ।

ডানহাতি পেসারের লেংথ ডেলিভারিতে নিজের শরীর থেকে বল একটু দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে সেটা করতে পারেননি। বল চলে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন করলেও তাতে একদমই সাড়া দেননি শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও রিভিউও নেন।

টিভি রিপ্লে ও আলস্ট্রা এজে দেখা যায় বল ব্যাট না ছুঁয়েই লিটনের গ্লাভসবন্দী হয়েছে। বল ব্যাটে স্পর্শ করেনি সেটা যেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত আরও এক দফা বেঁচে যান স্মিথ। যদিও বল ব্যাটে লেগেছে এমন একটা শব্দ শুনেছিলেন ডানহাতি ব্যাটার নিজেও। এমনকি আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ না নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে যেতেন বলেও জানান তিনি।

প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ বলেন, ‘আমি কী ভাগ্যবান ছিলাম? হ্যাঁ। সাধারণত টেকনোলজি বেশিরভাগ সময় নির্ভুলই থাকে। হতে পারে ব্যাটে বল লাগেনি, আমি নিশ্চিত নই। তবে আমার মনে হয়েছিল কিছু একটা স্পর্শ করেছে। আম্পায়ার আউট দিলে আমি মাঠ ছেড়েই চলে যেতাম। হ্যাঁ, টেকনোলজিই আজ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।’

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে নেই নাহিদ রানা। একই কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারছেন না শরিফুল ইসলামও। বোলিং বিভাগে খানিকটা শক্তি কমলেও সেটা ফুটে ওঠেনি ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনে। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। সবুজ উইকেট, সকালের মুভমেন্ট সঙ্গে নিখুঁত লাইন লেংথে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন হাসান মাহমুদ, ইবাদত ও তাসকিন আহমেদ। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ১০ উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।

হাসান একাই নিয়েছেন ছয় উইকেট। ইবাদত ও তাসকিনের শিকার দুইটি করে উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অল আউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দিনের খেলা শেষে তাই বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসা করতে ভুললেন না স্মিথ। ডানহাতি ব্যাটার এও জানালেন, তাদের ডিফেন্সের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন হাসান-তাসকিনরা।

স্মিথ বলেন, ‘আমার মনে হয় ওদের সব বোলারই দারুণ বল করেছে। আগেই বলেছি, কন্ডিশন বেশ কঠিন ছিল এবং বল সুইং করছিল। ওরা সঠিক জায়গায় বল করেছে এবং আমাদের ডিফেন্সকে ভালোই পরীক্ষায় ফেলেছে। সব মিলিয়ে আজ ওদের বোলিং চমৎকার ছিল।’

আরো পড়ুন: