যখন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম শুরু হবে, তখন আবার রাজনীতি চালিয়ে যাবেন- মূলত এমন বক্তব্যের কারণেই সমালোচিত হন সাকিব। এবার প্রায় ১২ ঘন্টা পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক। নিজের ভ্যারিফাইড ফেইসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে সাকিব দর্শকদের কাছে স্পষ্ট করেন নিজের বক্তব্য।
সবাইকে সালাম দিয়ে শুরু করা সেই স্ট্যাটাসে সাকিব লিখেন, 'সম্প্রতি গণমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্য বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। আমি সবার কাছে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই। এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের এই শেষ পর্যায়ে এসে আমি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলতে চাই এবং সুযোগ পেলে দেশকে কিছু দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই।'
রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে সাকিব লিখেন, 'একটি দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর, আমি আমার দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। তবে সেটা যে শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে, তা নয়। রাজনীতি ছাড়াও দেশের জন্য কাজ করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ, রাজনীতির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়তো অনেক বেশি সহজ হয়।'
তবে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে সাকিব তার স্ট্যাটাসের শেষ ভাগে লিখেন, 'আমি আশা করি লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মুখে হাসি নিয়ে আমি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে পারব। এই লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা প্রার্থী।'
২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যূথানে পতন হয় তৎকালীন ক্ষমতাসীণ আওয়ামীলিগ সরকারের। সেই সরকারেরই সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সরকার পতনের সময় তিনি অবস্থান করছিলেন কানাডায়। এর পর পাকিস্তান এবং ভারত সিরিজে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তাঁকে ২২ গজে দেখা গেলেও, ভারত সিরিজের পর থেকে আর জাতীয় দলের স্কোয়াডে দেখা যায়নি তাকে। এখনো দেশের ফেরেননি তিনি।
গত ফেব্রুয়ারীতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে, আবারো আলোচনা শুরু হয় সাকিবের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সাকিবকে ফেরাতে আন্তরিক বলে শোনা গেছে বেশ কয়েকবার।